spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ফের জলমগ্ন চট্টগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে আবারও জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরী। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। এর সঙ্গে জোয়ারের পানি যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভোগান্তিকর হয়ে উঠেছে।

- Advertisement -

ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন সড়ক ও নিম্নাঞ্চলে পানি জমতে শুরু করে। কোথাও কোথাও সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। জলাবদ্ধ সড়কে আটকে পড়েন পথচারী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, আবাসিক এলাকা ও নিচু স্থানে পানি জমে থাকায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক স্থানে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে যানজট। জলাবদ্ধতার কারণে নগরজীবনে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা। বিশেষ করে সকালে কর্মস্থলে যাওয়া লোকজন, স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থী ও জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষের দুর্ভোগ ছিল সীমাহীন।

পানি ঢুকে যায় নিচু এলাকার বিভিন্ন বাসা–বাড়ি ও দোকানপাটে। রেয়াজুদ্দিন বাজারের কয়েকটি মার্কেটের দোকানে পানি ঢুকে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়েছে চকবাজার চক সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীদেরও। অক্সিজেন সংলগ্ন এলাকায় ডুবে যায় রেললাইন। এতে ষোলশহরে আটকে যায় বিশ্ববিদ্যালয়গামী দুটি শাটল ট্রেন। সবমিলিয়ে এক মাসের ব্যবধানে আবার জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীকে।অতি ভারী বর্ষণের সঙ্গে জোয়ারের প্রভাব : উত্তর–পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং মৌসুমি বায়ুর প্রবল সক্রিয়তার কারণেই আকস্মিক অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে নগরে। গত রোববার দিবাগত রাত থেকেই শুরু হয় বৃষ্টি। রাতভর থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও ভোররাতে একটানা বৃষ্টি হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস গতকাল সোমবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টায় নগরে ১৩৭ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। এছাড়া বিকেল ৩টা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৯৭ দশমিক ২ মিলিমিটার ও সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড হয় ১৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। ২৪ ঘণ্টায় ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে সেটাকে অতি ভারী বর্ষণ বলা হয়। ওই হিসেবে গতকাল অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে নগরে।

এদিকে বৃষ্টির পাশাপাশি জোয়ার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। গতকাল সকাল ১০টা ৬ মিনিটে জোয়ার আসে কর্ণফুলী নদীতে। এর আগে ভাটা শুরু হয় দিবাগত রাত ৩টা ২৩ মিনিটে। যখন ভাটা শুরু হয় তখন জোয়ারের উচ্চতা থাকে সর্বোচ্চ। অর্থাৎ ভোর রাতে যখন বৃষ্টি শুরু হয় তখন জোয়ারের পানির লেবেল ছিল সর্বোচ্চ।

নগরবাসীর অভিযোগ, ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি জোয়ারের পানি নগরের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই অনেক এলাকায় পানি জমে যায়। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয় নগরবাসীকে।

এদিকে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে বলে জানা গেছে। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এবং জোয়ারের পানি বাড়লে নগরের জলাবদ্ধ পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নগরবাসী দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর জলাবদ্ধতা নিরসন ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি খাল-নালা ও নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।

spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

সর্বশেষ