আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ‘কোনো অবস্থাতেই আমরা বলপ্রয়োগ বা জুলুমের কাছে মাথা নত করব না’—সংঘাত ও বৈশ্বিক চাপের প্রেক্ষাপটে এমন তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন, ইরান বর্তমানে এক শক্তিশালী ও সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছে এবং এই মুহূর্তেই যুদ্ধ শেষ হওয়া শ্রেয়।
শুক্রবার ইরানি মেডিকেল সোসাইটির ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশনের ৩১তম সাধারণ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন।
ইরানি সংবাদসংস্থা আইএসএনএ (ISNA)-র বরাত দিয়ে জানা যায়, সাম্প্রতিক আলোচনার মাধ্যমে অর্জিত সমঝোতাকে একটি “বড় অর্জন” হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সর্বসম্মতিক্রমে এই চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, “এই চুক্তিতে এমন একটি ধারাও খুঁজে পাওয়া যাবে না যা ইরানের আত্মসমর্পণকে নির্দেশ করে; বরং সমস্ত প্রতিশ্রুতি ও বাধ্যবাধকতা অপরপক্ষের ওপরই বর্তেছে।”
ইরানের শীর্ষ এই নেতা আরও জোর দিয়ে বলেন, ইরানের কখনোই শান্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা উচিত নয়, তবে শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমরা কোনো অবস্থাতেই বলপ্রয়োগ মেনে নেব না। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমরা তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব এবং যেকোনো নতুন হামলার দাঁতভাঙা জবাব দেব।”
যুদ্ধে শেষ টানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যেকোনো যুদ্ধ একপর্যায়ে গিয়ে শেষ হতেই হয়। তবে আমরা যখন শক্তি ও মর্যাদার সর্বোচ্চ অবস্থানে আছি, তখনই এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটা ভালো।”
বক্তব্যে যুদ্ধ এবং নৌ-অবরোধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যস্ফীতির বিষয়টিও স্বীকার করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। সংঘাতের পক্ষে মত দেওয়া গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যারা সংঘাতের পথ বেছে নিতে চান, তাদের এর থেকে তৈরি হওয়া কঠিন বাস্তবতার দায়ভারও গ্রহণ করতে হবে। “আমরা যখন বড় বড় স্লোগান দিই, তখন তার সাথে আসা কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করার মানসিকতাও আমাদের থাকতে হবে,”—বলেন পেজেশকিয়ান।




