spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

৬৬.৩ শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস অতিক্রম করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলীয় ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
সরকারের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রমের ওপর জরিপ চালিয়েছে ডপলার রিসার্চ বাংলাদেশ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের জরিপে উঠে এসেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজে সন্তুষ্ট ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ। ইনোভিশন কনসালটিং জরিপে অর্থায়ন ও সহায়তা করেছে।

- Advertisement -

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইনোভিশন কনসালটিংয়ের অর্থায়ন ও সহায়তায় পরিচালিত এই জরিপের ফলাফল বুধবার (১৯ আগস্ট) প্রকাশিত হয়েছে।
জরিপে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জোরালো সমর্থন পাওয়া গেলেও সরকারের কাজ এবং দেশ কোন পথে চলছে—এই দুই প্রশ্নে সন্তুষ্টির হার তুলনামূলক কম বলে জানানো হয়েছে।
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে মানুষ আশাবাদী, কিন্তু একইসঙ্গে তারা বলছেন, অর্থনৈতিক অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। খাদ্য ও জ্বালানির দাম এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতিকে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন উত্তরদাতারা। জরিপের মাঠপর্যায়ের কাজ পরিচালিত হয়েছে এই আগস্টেই।
২১ দশমিক ৬ শতাংশ বলেছেন, তিনি ভালো করছেন না। বাকি ১২ দশমিক ১ শতাংশের কোনো মতামত নেই কিংবা তারা উত্তর দিতে চাননি।
এই মূল্যায়ন প্রায় সব ক্ষেত্রেই অভিন্ন। বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষা ও আয়—সব শ্রেণিতেই এই হার ৬১ দশমিক ৭ থেকে ৭০ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে এবং আটটি বিভাগের প্রতিটিতে ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ বা তার বেশি।

সরকারের কাজে সন্তুষ্টির তুলনায় প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্টির হার বেশি। এমনকি অন্য দলের সমর্থকদের মধ্যেও তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে ৬৫দশমিক ৫ শতাংশ, জাতীয় নাগরিক পার্টির সমর্থকদের মধ্যে ৬৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সন্তুষ্ট।সরকারের কাজকে ভালো বলেছেন ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ, খারাপ বলেছেন ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রতিটি দলীয় সমর্থকগোষ্ঠীতেই একই ক্রম দেখা গেছে—প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান সরকারের ওপরে, আর সরকারের অবস্থান দেশের গতিপথ নিয়ে মূল্যায়নের ওপরে।

দেশ সঠিক পথে চলছে, বলছেন অর্ধেকের কিছু কম

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেন, দেশ সঠিক পথে চলছে, আর ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেন, ভুল পথে। ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ কোনো উত্তর দেননি—যা জাতীয় পরিস্থিতি সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নের মধ্যে সর্বোচ্চ।

জরিপের অন্য যেকোনো প্রশ্নের তুলনায় এই প্রশ্নেই মতভেদ সবচেয়ে বেশি। বিএনপির সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ বলেছেন, দেশ সঠিক পথে আছে। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ক্ষেত্রে এই হার সর্বনিম্ন—৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ।খাদ্য ও জ্বালানির মূল্য এবং বিদ্যুৎ নিয়ে নাগরিকরা উদ্বিগ্ন

দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী—কোনো তালিকা না দিয়ে এই প্রশ্ন করা হলে ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ বলেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কথা এবং ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ বলেছেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের কথা। তৃতীয় স্থানে আইনশৃঙ্খলা (৩২ দশমিক ৬ শতাংশ) এবং চতুর্থ স্থানে কর্মসংস্থান (৩০ দশমিক ৮ শতাংশ)।

যে দুটি বিষয়কে সবচেয়ে বড় সমস্যা বলা হয়েছে, সেই দুটির ক্ষেত্রেই সরকারের কাজের মূল্যায়ন সবচেয়ে খারাপ। ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ বলেছেন বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা খারাপ হচ্ছে, ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশ বলেছেন জ্বালানি ও গ্যাসের ক্ষেত্রে এবং ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ বলেছেন নিত্যপণ্যের মূল্যের ক্ষেত্রে।

কঠিন এক বছর পেরিয়ে, সামনের বছর ভালো যাওয়ার প্রত্যাশা

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ বলেছেন, এক বছর আগের তুলনায় তাদের পরিবারের অবস্থা খারাপ হয়েছে; ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ বলেছেন ভালো হয়েছে।

সামনের ১২ মাসে অবস্থা ভালো হবে বলে আশা করছেন ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ, খারাপ হবে বলে মনে করেন ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। দেশ নিয়ে ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ এক বছর আগের চেয়ে বেশি আশাবাদী, ৩৯ শতাংশ কম আশাবাদী এবং মাত্র ৬ দশমিক ২ শতাংশ বলেছেন কিছুই বদলায়নি।

ফ্যামিলি কার্ড, করনীতি এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রতি ব্যাপক সমর্থন

ফ্যামিলি কার্ডকে সমর্থন করেছেন ৭৮ দশমিক ৬ শতাংশ, করনীতিকে সমর্থন করেছেন ৭০ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ৭০ দশমিক ০ শতাংশ মনে করেন, সরকারের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা উচিত।

বিরোধী নেতাদের গ্রহণযোগ্যতা ভালো

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের কাজকে ভালো বলেছেন ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ; জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়কের কাজকে ভালো বলেছেন ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

নারী ও সংখ্যালঘুরা তুলনামূলকভাবে কম নিরাপদ বোধ করেন

নিজের এলাকায় সন্ধ্যার পর একা হাঁটতে নিরাপদ বোধ করেন ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ নারী, পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ।

প্রকাশ্যে ধর্ম পালন করতে নিরাপদ বোধ করেন ৯৫ দশমিক ২ শতাংশ। তবে মুসলিম উত্তরদাতাদের মধ্যে এই হার ৯৭ দশমিক ১ শতাংশ এবং হিন্দু উত্তরদাতাদের মধ্যে ৮২ শতাংশ।

spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

সর্বশেষ