spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

সিইউ সেমিনারে বক্তারা

“আমিষেই শক্তি, আমিষেই মুক্তি; রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম. চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেছেন, আমরা যখন মৎস্য ও নীল অর্থনীতি নিয়ে কথা বলি, তখন শুধু মাছ উৎপাদন বা মৎস্য চাষের মধ্যে বিষয়টিকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। মৎস্যসম্পদের রোগ নির্ণয় ও প্রতিরোধ, প্রজনন, জীববৈচিত্র, পরিবেশগত প্রভাব, সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, মৎস্য আইন এবং সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতির অন্যান্য বিষয়কে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ফিশারিজ বিভাগের উদ্যোগে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় এসব কথা বলেন।
“আমিষেই শক্তি, আমিষেই মুক্তি; রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মৎস্য বিষয়ক সেমিনার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) বেলা ১২টায় চবি মেরিন সায়েন্সস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদ অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে উপাচার্য আরো বলেন, আমরা সমুদ্রসীমা অর্জন করেছি, সমুদ্রের বিশাল সম্পদের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি। কিন্তু এই অর্জন আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে কাঙ্খিত প্রভাব ফেলতে পেরেছে কি না, সেটি ভেবে দেখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আমাদের আরও কার্যকর ও প্রয়োগমুখী গবেষণা করতে হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স ও ফিশারিজ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে এই গবেষণার নেতৃত্ব দিতে হবে। উপাচার্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
সেমিনার ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন এবং মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চবি মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. শাহাদাত হোসেন ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ.এম মাসুদুল আজাদ চৌধুরী। সেমিনারে মূখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফিশারিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মো. রাশেদ-উন-নবী। ফিশারিজ বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. আশরাফুল আজম খান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, ফিশারিজ বিভাগে বর্তমানে শিক্ষকসংখ্যা সীমিত হলেও তাঁরা যেভাবে নিয়মিত একাডেমিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, নিরাপদ ও মানসম্মত মাছ উৎপাদনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চাষের মাছের খাবার বা ফিশ ফিড নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে ফিশারিজ বিভাগের গবেষকদের আরও কার্যকর গবেষণা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রাকৃতিক ও নিরাপদ উপাদান ব্যবহার করে মানসম্মত ফিশ ফিড তৈরির বিষয়ে গবেষণা করা গেলে তা মৎস্য খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
সভায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক অঞ্চলের জীববৈচিত্র ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা যায়, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, পানিদূষণ এবং অবৈধ মৎস্য আহরণের কারণে আমাদের মৎস্যসম্পদ ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ হুমকির মুখে পড়ছে। শিল্প-কারখানা, জাহাজ ও নৌযান থেকে বর্জ্য নিক্ষেপসহ বিভিন্ন কারণে পানিদূষণ বাড়ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিকর ও সূক্ষ্ম জাল ব্যবহারের ফলে ছোট মাছ ও পোনা নির্বিচারে ধরা পড়ছে, যা মাছের প্রজনন ও উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই এই সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার দিকে আমাদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশের মৎস্য খাতের বৈপ্লবিক উন্নয়ন, স্বনির্ভরতা অর্জন এবং টেকসই মাছ চাষের আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণার নানা দিক তুলে ধরে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করেন। সেমিনারের আগে এদিন সকালে মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যসহ অতিথিবৃন্দ মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। অনুষ্ঠানের অংশ পোস্টার প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত সেমিনারে মেরিন সায়েন্সস ইনস্টিটিউটের পরিচালক, চাকসু কেন্দ্রের পরিচালক, ফিশারিজ, মেরিন সায়েন্সস ইনস্টিটিউট ও ওশানোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

সর্বশেষ