নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম নগরের দেওয়ানহাট মোড় এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার সংরক্ষণ, বাসি খাবার বিক্রির জন্য রাখা এবং খাদ্যে অননুমোদিত ক্ষতিকর রং ব্যবহারের অভিযোগে তিন রেস্টুরেন্টকে মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দেওয়ানহাট মোড় ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন খাদ্য প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে এসব অনিয়মের প্রমাণ পায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানকারী দল।
অভিযানে গ্রান্ড তাজমহল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির রান্নাঘর ও খাদ্য সংরক্ষণস্থলে অননুমোদিত ক্ষতিকর রং মেশানো কাশ্মীরি মরিচ, পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত খাদ্য ও পানীয় পাওয়া যায়। পাশাপাশি রান্না করা বাসি মুরগির চাপ, মুরগির মাংস, খিচুড়িসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে সংরক্ষণ করতে দেখা যায়।
অভিযানকারী দল আরও দেখতে পায়, রেস্টুরেন্টটির ফ্রিজে কাঁচা মাছ ও মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবার একইভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। খাদ্য সংরক্ষণের এমন ব্যবস্থাকে স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে আলিফ রেস্টুরেন্টকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেখানে রান্না করা বাসি খাবার কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে একই ফ্রিজে রাখা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ এবং খাবারের আশপাশে তেলাপোকার বিচরণ দেখতে পান অভিযানকারীরা।
অন্যদিকে রান্না করা বাসি খাবার কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে অস্বাস্থ্যকরভাবে সংরক্ষণের দায়ে ক্যাফে আরমান হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
চট্টগ্রাম ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, খাদ্যদ্রব্যে অননুমোদিত ক্ষতিকর রং ব্যবহার, পচা ও বাসি খাবার সংরক্ষণ এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ সরাসরি ভোক্তার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি বলেন, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও বিক্রির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে একই ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানের অংশ হিসেবে দেওয়ানহাট মোড় এলাকার বিভিন্ন ফলের দোকানেও তদারকি করা হয়। এ সময় ফলমূল স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সংরক্ষণ ও বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বলছে, খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।




