মো.মোক্তার হোসেন বাবু : অসুস্থ মাকে শেষবার দেখতে পারেননি কারাবন্দি ছেলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। সেই আক্ষেপ নিয়েই বৃহস্পতিবার না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তার মা সন্ধ্যা রাণী ধর। তবে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন চিন্ময়। পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দিয়ে তাকে মায়ের শেষকৃত্যে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে পাঁচ ঘণ্টার প্যারোল মঞ্জুর করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে চিন্ময়ের প্যারোল মঞ্জুর করা হয়েছে। পাঁচ ঘণ্টার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তবে প্যারোলের আদেশের কাগজপত্র বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ্ শরীফ। তিনি বলেন, চিন্ময়ের প্যারোল মঞ্জুরের বিষয়টি তারা শুনেছেন। তবে অফিসিয়াল আদেশ হাতে পাওয়ার পরই তাকে কারাগার থেকে বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
এদিকে চিন্ময়ের প্যারোলে মুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাটহাজারীর পুণ্ডরীকধাম আশ্রমে ভক্ত-অনুসারীদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করে। বৃহস্পতিবার সকালে এই আশ্রমেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান চিন্ময়ের মা সন্ধ্যা রাণী ধর।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সন্ধ্যা রাণীর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী পুণ্ডরীকধামেই তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসও একসময় এই ধামের প্রধান সেবায়েত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মায়ের শেষকৃত্যে ছেলের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে পুণ্ডরীকধাম এলাকায় নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ জানিয়েছেন, চিন্ময়ের প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি তারা জেনেছেন। তাকে হাটহাজারীতে আনা হলে পুণ্ডরীকধাম এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত রিজার্ভ ফোর্সও আনা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
চিন্ময়কে আদালতে হাজির করার পর তার অনুসারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় আদালত-সংলগ্ন পাথরঘাটা বাণ্ডেল রোড এলাকায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।
বর্তমানে চিন্ময়ের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার বিচার চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে চলমান।




