spot_imgspot_img

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা কমে আসছে, মিত্রদের সহায়তা চাইছে সৌদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
spot_img

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইন্টারসেপ্টর কমে আসছে। এ পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্রদের কাছে বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ। বুধবার দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) এ তথ্য জানিয়েছেন।

- Advertisement -

ওই কর্মকর্তাদের দাবি, হুথি ও ইরানসমর্থিত অন্যান্য গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরকে এই অঞ্চলে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছে সৌদি আরব।

তাদের একজন বলেন, সৌদি আরবের প্রধান মিত্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্রও গত ছয় মাস ধরে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় রিয়াদের অনুরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
আর সৌদি কর্মকর্তারা এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি।

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে নতুন করে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার সৌদি আরব অভিযোগ করে, হুথিরা ইসলাম ধর্মের পবিত্রতম শহর মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা ড্রোনটি ভূপাতিত করেছে। তবে হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মস্থান মক্কাকে সৌদি আরব ‘রেড লাইন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ইয়েমেনের সীমান্ত থেকে শহরটির দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার।

মক্কাকে লক্ষ্য করে কথিত হামলার ঘটনায় বিভিন্ন দেশ সৌদি আরবের প্রতি সংহতি জানালেও এখন পর্যন্ত সামরিক সহায়তার কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি।

মঙ্গলবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র টম ওয়েলস সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ‘ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের’ কথা নিশ্চিত করেন। তবে সৌদি আরব সামরিক সহায়তা চেয়েছে কি না বা যুক্তরাজ্যের সেনারা দেশটিতে অবস্থান করছে কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর কর্মকর্তারা ইউরোপে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের সংকটের কথা স্বীকার করেছেন। ফলে সৌদি আরবকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ইউরোপীয় দেশগুলোর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে তুরস্কের এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আলোচনা করছে আঙ্কারা। তবে তিনি আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।

হুতিদের সাম্প্রতিক হামলা সৌদি আরব, ন্যাটোর সদস্য তুরস্ক ও পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের মধ্যে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিরও প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তুরস্ক ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, হুতিদের সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর সৌদি আরবের কাছ থেকে তারা সামরিক সহায়তার কোনো অনুরোধ পাননি।

মক্কাকে লক্ষ্য করে কথিত হামলার নিন্দার মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তান ও সৌদি আরব ‘অটলভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ থাকবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও সৌদি আরবের প্রতি সংহতি জানিয়ে বলেন, এ ধরনের ঘটনায় কোনো দেশই ‘উদাসীন থাকতে পারে না’। তবে অস্ত্র সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারে কেউ স্পষ্ট ঘোষণা দেননি।

সূত্র: এপি

spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

সর্বশেষ