spot_imgspot_img

গুলশান-ধানমন্ডি-নিকেতন লেক রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক :
spot_img

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন ও ধানমন্ডি লেকের দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। লেকে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের পথ বন্ধ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। রাজধানীর বিভিন্ন লেকের দূষণ রোধ, সংস্কার ও পরিবেশগত উন্নয়ন নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এর আগে জুলাই মাসেও ধানমন্ডি ও গুলশান লেকের উন্নয়ন এবং অবৈধ বর্জ্য সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

বৈঠকে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার লেকগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি, দূষণের উৎস এবং সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ধানমন্ডি লেকের সংস্কার, স্লাজ অপসারণ ও পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়।

সভায় জানানো হয়, গুলশান লেকে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের ছয়টি প্রাইমারি ও ছয়টি সেকেন্ডারি পয়েন্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এসব সংযোগের মাধ্যমে দূষিত পানি ও পয়ঃবর্জ্য লেকে প্রবেশ করছে। বিষয়টি সমাধানে গঠিত কারিগরি কমিটি স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন সুপারিশ বৈঠকে উপস্থাপন করে।

লেকের দূষণ কমাতে প্রথমেই পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের পথ বন্ধ করার ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবনভিত্তিক এসটিপি স্থাপন এবং বিদ্যমান স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের পূর্ণাঙ্গ জরিপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। গুলশান-বনানী এলাকায় শর্তসাপেক্ষে স্যুয়ারেজ বিল আদায় এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ক্যাচমেন্ট এরিয়া তৈরির বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

লেকের ভাসমান বর্জ্য দ্রুত অপসারণে বর্তমানে ব্যবহৃত যান্ত্রিক নৌকার সংখ্যা দুইটি থেকে বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ভাসমান এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করে লেকের তলদেশে জমে থাকা স্লাজ অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী যেসব ভবনে এসটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক, সেসব ভবনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা স্থাপন নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সরাসরি বৃষ্টির পানির ড্রেন কিংবা লেকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুপারিশ করা হয়।

এ ছাড়া লেকের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে এরেটর স্থাপন, দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে জৈবিক ও রাসায়নিক পদ্ধতির সমন্বিত ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর স্যানিটেশন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাবও বৈঠকে দেওয়া হয়।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, রাজউকের আওতাধীন লেকগুলোর সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৪২ জন জনবল নিয়ে পাঁচটি বিশেষ টিম ইতোমধ্যে দায়িত্ব পালন করছে।

বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

সর্বশেষ