বিশেষ প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম নগরের পুরাতন চাঁদগাঁওয়ের সাধুর পাড়ায় ‘যৌথ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি’ নামে একটি সংগঠনের কার্যক্রম ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটির কার্যক্রম চললেও এর নিবন্ধন, সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ এবং সেই অর্থ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সমিতির নামে নিয়মিত সদস্যদের কাছ থেকে সঞ্চয়ের অর্থ সংগ্রহ করা হয়। অনেক ব্যবসায়ী প্রতিদিন নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা দিতেন। কিন্তু প্রয়োজনের সময় জমাকৃত অর্থ ফেরত চাইতে গিয়ে কেউ কেউ সমস্যায় পড়েছেন। একাধিকবার যোগাযোগ করেও টাকা ফেরত পেতে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সদস্য।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, শুরুতে নিয়মিত সঞ্চয় জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের কোনো সমস্যা হয়নি। তবে জমা করা টাকা ফেরত নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হয়ে যায়। টাকা ফেরতের জন্য সমিতির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁদের।
এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, ‘যৌথ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি’ কোন কর্তৃপক্ষের অধীনে নিবন্ধিত, এর অনুমোদিত গঠনতন্ত্র কী এবং সদস্যদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থ কোন নিয়মে পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সমিতির ব্যাংক হিসাব, হিসাব সংরক্ষণ, অডিট ও সদস্যদের অর্থের নিরাপত্তা নিয়েও স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, কোনো সমিতির কার্যক্রমের সঙ্গে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহ ও সঞ্চয়ের বিষয় যুক্ত থাকলে সেই অর্থের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে সদস্যদের জমা করা অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে বিলম্বের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি যাচাই করা উচিত।
চট্টগ্রাম জেলা সমবায় কার্যালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সমবায় সমিতি আইন, ২০০১-এর অধীনে কোনো সমিতি পরিচালিত হলে সেটির নিবন্ধন থাকতে হবে এবং নিবন্ধিত সমিতিকে অনুমোদিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।
তিনি বলেন, আইনের ধারা ২(২০) অনুযায়ী ‘সমবায় সমিতি’ বলতে ওই আইনের অধীনে নিবন্ধিত বা নিবন্ধিত বলে গণ্য সমিতিকে বোঝায়। এ ছাড়া ধারা ২৪ অনুযায়ী নিবন্ধিত সমিতিকে সদস্য রেজিস্টার, শেয়ার রেজিস্টার এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ডিপোজিট ও লোন রেজিস্টারসহ ক্যাশবহি ও নির্ধারিত হিসাব-রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে হয়। ধারা ২৫ অনুযায়ী নিরীক্ষকের মাধ্যমে পরীক্ষিত উদ্বৃত্তপত্র প্রকাশের বিধানও রয়েছে।
তবে ‘যৌথ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি’র পরিচালক সুমন ও ম্যানেজার মিন্টুর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি। ফলে সংগঠনটির নিবন্ধন, সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ, টাকা ফেরতে বিলম্ব এবং আর্থিক হিসাব-নিকাশের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সমিতিটির নিবন্ধনসংক্রান্ত কাগজপত্র, গঠনতন্ত্র, ব্যাংক হিসাব, সদস্যদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ এবং হিসাব-নিকাশ ও অডিটের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
তাঁদের দাবি, তদন্তের মাধ্যমে সংগঠনটির আর্থিক কার্যক্রমের বৈধতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সদস্যদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিক।




