ইরানের ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ স্থাপনায় হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
spot_img

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি অকার্যকর করে দিতে দেশটির সুরক্ষিত ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া হবে না। তবে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েও কথা বলেন তিনি।

ট্রাম্পের দাবি, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পাহাড়ের গভীরে নির্মিত হওয়ায় সেগুলোতে হামলা চালানো কঠিন। তবে এসব স্থাপনা ধ্বংস করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো বিপুল পরিমাণ পাথর ও পাহাড়ের নিচে অবস্থিত। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ স্থাপনাটির দিকে নজর দিচ্ছে। প্রয়োজনে সেখানে হামলা চালিয়ে দ্রুত ধ্বংস করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

‘পিক্যাক্স মাউন্টেন’ ইরানের একটি সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কাছাকাছি অবস্থিত এই স্থাপনাটি গভীর ভূগর্ভে নির্মিত হওয়ায় সামরিক হামলার ক্ষেত্রে বিশেষ চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

ট্রাম্পের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নির্মূল করতে যুক্তরাষ্ট্র আরও সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তাঁর মতে, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র গেলে তা ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণেই দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেই বলে জানান তিনি।

এদিকে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী প্রচলিত বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামে পরিচিত জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট (এমওএবি) বোমার প্রসঙ্গ ওঠে।

তবে ইরানের বিরুদ্ধে এই বোমা ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি শুধু স্পষ্ট করেন, এমওএবি একটি প্রচলিত বোমা, পারমাণবিক অস্ত্র নয়।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে গভীর ভূগর্ভে অবস্থিত স্থাপনায় হামলার হুমকি এবং সামরিক অভিযানের পরিধি বাড়ানোর ইঙ্গিত পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

সর্বশেষ