কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার পাহাড়ি সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে দুই দফায় ডাকাতি করেছে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। সোমবার সকাল ও দুপুরে ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কের হিমছড়িঢালা এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। এ সময় ১৫ থেকে ১৬টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের যাত্রীদের জিম্মি করে নগদ টাকা, মুঠোফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়। কয়েকজন যাত্রীকে জঙ্গলে নিয়ে মারধরও করা হয়েছে। ঘটনার পর জড়িতদের গ্রেপ্তারে পাহাড়ি এলাকায় অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাত দলের সদস্যরা অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে তাঁদের সঙ্গে থাকা টাকা ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় অন্তত দুটি বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার ব্যবস্থাপক মো. রবিউল ইসলাম জানান, তিনি এক সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে হিমছড়িঢালা এলাকায় পৌঁছালে মুখোশধারী ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁদের মোটরসাইকেল থামিয়ে জিম্মি করেন। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করা হয়।
অন্য একটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার হিসাবরক্ষক আবদুল হাকিম জানান, তিনি আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে অটোরিকশায় ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন। পথে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা তাঁদের জিম্মি করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে তাঁদের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করা হয়।
ঈদগড়ের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে জানান, দুই দফায় ১৫ থেকে ১৬টি যানবাহনে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে।
ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম শিফাতুল মাজদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্বৃত্তরা সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহনে লুটপাট চালিয়ে পাশের জঙ্গলে আত্মগোপন করেছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ডাকাতির পর ওই সড়কে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশিও চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলার পাহাড়ি জনপদের প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে ডাকাতি, অপহরণ ও লুটপাটের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে সন্ধ্যার পর এ সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগপথে বারবার ডাকাতির ঘটনায় যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

