ইরানের অস্ত্র ও অর্থের প্রবাহ ঠেকাতে স্থলপথ ও কাস্পিয়ান সাগরে নজরদারি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
spot_img

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অস্ত্র ও নিষিদ্ধ পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগরপথে নজরদারি জোরদারে ২০ সদস্যের একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে অস্ত্র, সামরিক প্রযুক্তি এবং অবৈধ অর্থের লেনদেন বন্ধ করতে চায় ওয়াশিংটন।

- Advertisement -

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ পরিকল্পনার কথা জানান মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান ব্র্যাড কুপার। ফ্লোরিডাভিত্তিক এই বিশেষ টাস্কফোর্সে সামরিক ও বেসামরিক মিলিয়ে ২০ জন সদস্য থাকবেন।

মার্কিন সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে দলটি কাজ করবে। ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যকার স্থলপথ এবং কাস্পিয়ান সাগর ব্যবহার করে অস্ত্র, দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি, নিষিদ্ধ পণ্য ও অবৈধ অর্থের লেনদেন ঠেকানো হবে তাদের প্রধান দায়িত্ব।

ব্র্যাড কুপারের দাবি, নতুন এই নজরদারি ব্যবস্থা ইরানের সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন, অস্ত্র উৎপাদন কারখানা পুনর্নির্মাণ এবং সামরিক অস্ত্রভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা দুর্বল করবে।

ওয়াশিংটনের এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে মতবিরোধের কারণে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার সমুদ্রপথের পাশাপাশি স্থলসীমান্ত ও কাস্পিয়ান সাগরেও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে দেশটি। ফলে ইরানের পণ্য ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের বিকল্প রুটগুলোও মার্কিন নজরদারির আওতায় আসতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামুদ্রিক পথে বাধার মুখে ইরান অস্ত্র, প্রযুক্তি ও অর্থ সংগ্রহের বিকল্প মাধ্যম হিসেবে স্থলপথ এবং কাস্পিয়ান সাগরকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক ও পরিবহন যোগাযোগের সুযোগ ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার চেষ্টা হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন টাস্কফোর্স ইরানের বিকল্প সরবরাহপথগুলো সংকুচিত করার কৌশলের অংশ। তবে এই নজরদারি কার্যক্রম কতটা কার্যকর হবে এবং এর ফলে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কী প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর।

সূত্র: এনডিটিভি

সর্বশেষ