সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও বিশিস্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আইনজীবীরা ঐক্যবদ্ধ হলে সরকার টিকে না, সরকার পতন হয়। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন ও পতন তা প্রমাণ হয়েছে। অস্ত্র -অর্থ ছিল ক্ষমতা ছিল তারপরও কিন্তু টিকতে পারেনি। পাঁচ দিনের মধ্যে এরশাদ পতন ঘটিয়ে ছিলাম আমরা আইনজীবীরা।
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন আয়োজিত ‘আইনের শাসন ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, কষ্ট হয় বাংলাদেশের ৪৭ বছর পরে এসে আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন, সরকার পতনের কথা বলতে হয়, ভাবতে হয়। ৬০ দশকে পশ্চিমারা এদেশের শত্রুছিল এসময়ে এসে বাঙালী। আমরা এখন নিজেদের বিরুদ্ধে নিজেরাই আজ দাঁড়াতে হবে আইনের শাসন ও গণতন্ত্র পূর্ণপ্রতিষ্ঠা করার জন্যে এটা আমাদের জাতীর জন্য দুর্ভাগ্য। আমরা সুপ্রিম কোট বার আবারও রাজপথে নামবো জেলায় জেলায় মানুষের সাথে কথা বলবো দেশবাসীকে বুঝাবো রাজপথে নামতে।
ড. কামাল হোসেন, বলেন, এদেশে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা কে যে অপমান করা হয়েছে, এদেশে একদিন তাদের বিচার হবে। সেটা সমস্ত বিচার বিভাগকে অপমান করেছে এর পিছনে আমাদের এরই আরেক অংশ ক্রিড়ানক হয়ে কাজ করেছে আমি বলবো নিজেদের সম্মান রক্ষা করতে হলে সমস্ত আইনজীবীকে এক হতে হবে সবার আগে। আনইজীবীরা এক হলে এ অশুভ শক্তি বেশিদিন টিকতে পারবে না।
মতবিনিময় সভায় এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আইনের শাসন গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে রাজপথে আন্দোলন করতে হবে রাজনৈতিক সব দলকে এক হয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করতে হবে।
সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ তার বক্তব্যে বলেন, আপনারা জীবন থেকে নেওয়া চলচ্চিত্র দেখেছেন, এখাচা ভাঙ্গবো আমি কেমন করে! এটা ছিল ইয়াহিয়া সময়ের কথা। তবে আজও সেই একই রকম সমস্যা এ খাচা ভাঙ্গতে আমাদের সব পেশাজীবীকে রাজপথে নামতে হবে। আজকে ভিত্তি এমন ভাবে ছড়ানো হয়েছে, ভিত্তির চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। ভয় পেলে হবে না। সাহস করে নামতে হবে।
সিনিয়র এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমার ভোট আমিদেব তোমার ভোটও আমিদেব, এই গণতন্ত্র চলছে বাংলাদেশে । আপনি অজীবন ক্ষমতায় নয় এর উপর কিছু থাকলে সেটাও করেন, কিন্তু ভোটের অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন বাদদিয়ে নয়। এদেশে ৫ জানুয়ারী আর আসবেনা।
অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, এখানে সভায় আমিসহ চারজন আছেন, যারা কোন কারণ ছাড়াই মামলার আসমী হয়েছেন জেল খেটেছেন, শুধুমাত্র এ সরকারের সমালোচনা করেছেন বলে।
আমরা আগেও লেখালেখি করেছি কখনও এমন মামলার হয়রানির মুখমুখি হতে হয়নি।সর্বনাশ হওয়ার জন্য আর কত অপেক্ষা করবেন এখনও সময় আছে ঘুরে দাঁড়ানোর। বেগম খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করে সরকার তা ওপর জুলুম করেছে আরেক জুলুম করেছে তাকে জামিন না দিয়ে।
গণসাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফর উল্লাহ বলেন, সাবেক বিচারপতি খাইরুল হকের সমালোচনা করে বলেন, তিনি বলেন রাস্তায় মানুষের হাত-পা চলে যাচ্ছে, একটা সৌভ্য দেশে এমনটা হয় কি? ভাবে আমি বলি তিনি খাইরুল হক তার সময়ে যে রায় দিয়ে গেলেন, তার কথার মধ্যে প্রকাশ করেছেন যে এদেশের বিচার বিভাগেরও হাত-পা বাঁধা আছে।
ড. শাহদীন মালিক বলেন, অপ্রিয় কথা বলবো আজ আমাদের পেশাজীবীদের লেজুর ভিত্তির কারণে সমাজ ও দেশ আজ বহু ভাগে ভাগ হয়ে আছে। এদেশ এখন দুইটা জাতীতে পরিণত হয়েছে। একটা দেশ চার-পাঁচটা দেশে পরিণত হয়েছে। এই দেশ রক্ষা করতে হলে। গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে দুই-তিনটা বিষয়ে আমাদের একমত হতে হবে। এভাবে বিভাজন বাড়লে সবই হারাতে হবে বিনা বাধায়।
সভাপতির বক্তব্যে সুপ্রিম কোট বার এসোসিয়েশন সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, সুপ্রিম কোট, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র রক্ষা করতে সব রাজনৈতিক দলের সাথে যোগাযোগ বাড়ানো হবে। সমস্ত রাজনৈতিকপেশাজীবী শক্তিগুলোকে এক করতে ভুমিকা পালন করবে সুপ্রিম কোট বার এসোসিয়েশন।