ইশরাকের সহযোগিতায় ভেন্টিলেটর মেশিন উৎপাদনে যাচ্ছে বাংলাদেশ

 

- Advertisement -

প্রিয় সংবাদ ডেস্ক :: করোনাভাইরাস মহামারীতে বিভিন্ন দেশ এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। মৃত্যুর হার কমাতে পারছে না বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও। বিশ্ববাসীর এ ক্রান্তিলগ্নে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হয়ে উঠেছে ভেন্টিলেটর (কৃত্রিমভাবে স্বাস্থ্য প্রশ্বাস নেওয়ার যন্ত্র)।

সাধারণত কোনো কোম্পানি এর উৎপাদন কৌশল উন্মুক্ত করে না। তবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান ওমর ইশরাক এগিয়ে এসেছেন তার মেডিকেল যন্ত্রপাতি তৈরির প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে। ওমর ইশরাক চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরির বিশ্বখ্যাত উৎপাদন প্রতিষ্ঠান মেডট্রনিক –এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও চেয়ারম্যান।

সোমবার প্রকৌশলী ওমর ইশরাক এক টুইটে ভেন্টিলেটর তৈরির ডিজাইন উন্মুক্ত করার কথা জানিয়েছেন। টুইটে তিনি জানান, বৈশ্বিক মহামারীর এ সময়ে মেডট্রনিক ভেন্টিলেটর তৈরির কলা–কৌশল উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিগত সোর্স কোডও উন্মুক্ত করা হয়েছে যেন এ দুর্যোগের সময় সক্ষম যে কোন প্রতিষ্ঠান ভেন্টিলেটর উৎপাদন করতে পারে।

ওমর ইশরাক এ বিষয় নিয়ে একটি ফাইল শেয়ার করেছেন। এতে লেখা আছে, ভেন্টিলটরের প্রযুক্তিগত নকশা এমনভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে যেন উৎপাদক প্রতিষ্ঠান, স্টার্ট আপ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহজেই যন্ত্রটি উৎপাদন করতে পারে। পিবি ৫৬০ নামের ওই ভেন্টিলেটরের পেটেন্ট উন্মুক্ত করা হয়েছে। ভেন্টিলেটরটির সেবার নির্দেশিকা (ম্যানুয়াল), নকশা বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথি, উৎপাদন প্রক্রিয়ার তথ্য, রূপরেখা ও স্পেসিফিকেশন Medtronic.com/openventilator ওয়েবসাইট থেকে যে কেউ নিতে পারবেন। এ প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর দিয়ে সহজেই বয়ষ্ক ও শিশুদের সহজেই অক্সিজেন দেওয়া যাবে। এটি সহজেই যেকোন পরিচর্যা কেন্দ্র বা বাসায় ব্যবহারের উপযোগী।

মেডট্রনিক আশা করছে, ভেন্টিলেটরটির পেটেন্ট উন্মুক্ত করায় করোনাভাইরাসের মহামারির এ সঙ্কটে ভেন্টিলেটর উৎপাদন বাড়বে।

পেটেন্ট উন্মুক্ত করায় বাংলাদেশ সরকারও স্থানীয় প্রকৌশলীদের সহায়তায় উৎপাদন করতে পারবেন। মেডট্রনিকের গবেষণা ও উন্নয়ন শাখার কর্মকর্তারা যেকোন কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছেন।

এদিকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক মঙ্গলবার বিকাল সোয়া পাঁচটার দিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মেডট্রনিকের সহায়তায় বাংলাদেশ ভেন্টিলেটর তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। মিলিটারি ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি), বুয়েটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভেন্টিলেটর তৈরির উদ্যোগে সরকার সহযোগিতা করছে। এতে আইসিটি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলমসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় স্থানীয়ভাবে ভেন্টিলেটর (কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার যন্ত্র) উৎপাদন করবে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বের খ্যাতনামা মেডিকেল ইকুইপমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মেডট্রনিক তাদের পিবি ৫৬০ ভেন্টিলেটি তৈরি করার জন্য পেটেন্ট, সোর্স কোড, ডিজাইন, হার্ডওয়ার, সফটওয়্যার দিয়ে বাংলাদেশের আগ্রহী প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রযুক্তিগত সহায়তা করবে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে ভেন্টিলেটর উৎপাদন করতে কি কি প্রযুক্তি বাংলাদেশের প্রয়োজন সেই বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় উদ্ভাবক ও উৎপাদনকারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে বলে তিনি জানান।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে কবে কখন এটির উৎপাদন শুরু হবে সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিক পর্যায়ে কোন কোন প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কাজ করবে সেটাও এখনো ঠিক করা হয়নি।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভেন্টিলেটর উৎপাদনের পর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করবে তারা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে এগুলো বাজারজাত করবে কিনা। সরকার শুধু গাইডলাইন দিয়ে যাবে। আমেরিকান কোম্পানি মেডট্রোনিকের পার্টনারশীপের ফলে দ্রুত উৎপাদন করা সহজ হবে। স্থানীয় প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদন প্রতিষ্ঠান এবং তরুণ উদ্ভাবকদের উদ্ভাবনের ধারা আরো গতিশীল করা সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মিলিটারি ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, আই ল্যাবসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধিরা যুক্ত ছিলেন।

সর্বশেষ