‘আকবর আলী খানও বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়’

 

- Advertisement -

প্রিয়সংবাদ ডেস্ক :: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান বিএনপি করেন না। কিন্তু তিনিও বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আব্দুল হামিদ খান ভাসানী বিরচিত ‘মাও সে-তুঙ এর দেশে’ বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে তিনি এ কথা বলেন। কবি আব্দুল হাই শিকদার এই বই সম্পাদনা করেন।
বিতর্ক প্রতিযোগিতার একটি অনুষ্ঠানে আকবর আলি খান বলেন, রাজনৈতিক সরকারের অধীন নির্বাচন হলে নির্বাহী বিভাগ ক্ষমতাসীনদের নির্দেশনার বাইরে যেতে পারে না, এমনকি তারা ভবিষ্যৎ বেনিফিট (সুবিধা) নেয়ার চিন্তা করে। তাই বাংলাদেশে বর্তমান অবস্থায় শুধু নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব নয়।
বিএনপি নির্বাচনমুখী দল উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা নির্বাচনে বিশ্বাস করি। সেই নির্বাচনে যদি আমরা যেতে চাই তাহলে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দরকার হবে। পাকিস্তানে এতো টালমাটাল।
এরপরও ওখানে নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।
আওয়ামী লীগ কেন মাওলানা ভাসানীকে স্বীকার করে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, মাওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। অথচ তারা মাওলানা ভাসানীকে একবারের জন্যও স্বীকার করতে চায় না। মাওলানা ভাসানী বাংলাদেশের গরিব দুঃখী, মেহনতি মানুষের জন্য তার সারাটা জীবন উৎসর্গ করেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের মুক্তির একটাই মাত্র পথ আছে সামনে খোলা। সেটা হলো মওলানা ভাসানী, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ বাংলাদেশ সৃষ্টিতে যাদের অবদান আছে তাদের স্মরণ করে, তাদের পথে গিয়ে একটা ঘটনা ঘটাতে হবে। চীনের মতো একটা বিপ্লব আমাদের গড়ে তুলতে হবে। তাতে হয়তো সমস্ত মানুষের মুক্তির পথ হবে না, কিন্তু জাতীয় মুক্তির পথ তৈরি করা হবে।
‘ক্ষমতাসীনদের শোষণ আর লুণ্ঠনে দেশে দুঃসহ এক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে; যা সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে’ মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা সাদামাটাভাবে যেটা বুঝি, এখন দুঃসময়, যা আর সহ্য করা যাচ্ছে না। অস্বাভাবিক, দুঃসহ একটা যন্ত্রণা এখন বাংলাদেশে। এরকম যন্ত্রণা থেকে মানুষ মুক্তি চায়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের আজ মুক্তির পথটাকে খুঁজে বের করতে হবে। প্রথম যে দরকারটা হচ্ছে আমাদের অধিকারটাকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেই অধিকারটাকে আমরা পরিষ্কার করতে চাই। আমরা নির্বাচনে বিশ্বাস করি। সেই নির্বাচনে যদি যেতে চাই, তাহলে সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন দরকার।
‘নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশকে বাসযোগ্য করতে হবে’ মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, তাদের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে। খেটে খাওয়া মানুষদের অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। নতুন চিন্তা আনতে হবে। এখন সমাজতন্ত্রের কথা কেউ বলে না। সমাজতন্ত্র খুঁজে পাওয়া যায় না। সব চিন্তার এখন পরিবর্তন হতে চলেছে। এখন চায়নাতেও এখন তারা বলছে, কমিউনিজম উইথ চাইনিজ ক্যারেক্টারিস্টিক্স।
বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট কালচারাল ফাউন্ডেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন হুমায়ুন কোভিদ ব্যাপারী। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী।

সর্বশেষ