শত নিপীড়ন নির্যাতন করেও বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
জাতীয়তাবাদী হেল্প সেলের উদ্যোগে গত ৯ বছরে গুম, খুনের শিকার বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ১৪টি পরিবারকে শিক্ষাবৃত্তি ও আর্থিক অনুদানের টাকা তুলে দেন বিএনপি মহাসচিব।
এসময় তিনি বলেন, দেশের মানুষ জেগেছে। এখন শহর-বন্দর-উপজেলা ছাড়িয়ে গ্রাম পর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা আন্দোলন শুরু করেছে। চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে মানুষ রাস্তায় নামতে শুরু করেছে। এত মানুষকে হত্যা, গুম, নির্যাতনের পরও বিএনপিকে দমাতে না পারাটাই বর্তমান সরকারের বড় ক্ষোভের কারণ।
সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিগত বছরগুলোতে বিএনপির ছয়শো নেতাকর্মী গুম খুনের শিকার হয়েছে। পয়ত্রিশ লাখ নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে। এই সরকার জোর করে ক্ষমতায় থাকতে বিরোধী দলের ওপর দমন পীড়ন চালাচ্ছে।
খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নিতে যেতে না দেয়ার সমালোচনা করে তিনি এসময় আরো বলেন, গণতন্ত্র চায় এমন কোনো মানুষ দেশে এখন নিরাপদ নয়। গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই মুহূর্তে কারাগারে অন্তরীণ না হলেও গৃহ অন্তরীণ রয়েছেন।
গতকালও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যেতে হয়েছে। ডাক্তার চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার কথা বললেও সরকার অনুমতি দেয়নি, দিচ্ছে না। খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে দিচ্ছেন না কারণ এ সরকারের ভয় খালেদা জিয়া বের হলে তাকে সামাল দিতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল।
অনুষ্ঠানে ভোলা জেলার নুর আলম, আব্দুর রহিম, নুরুল আলম নুরু, মো. সুমন ইসলাম, মো. লিখন খান, অমিত হাসান, আল আমিন, মনির হোসেন, সানাউল্লাহ, ফেনী জেলার আবুল কালাম, জামশেদ আলম, হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রামের ইয়াসিন আরাফাত, নেত্রকোনার মঞ্জুরুল হক মঞ্জুর পরিবারের সদস্যদের হাতে এসময় অর্থ সহায়তা তুলে দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।