রংপুরে একই সময়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালনে জড়ো হন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সহস্রাধিক নেতা-কর্মী।
বেলা ১২টার পর বিএনপির নেতা-কর্মীরা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি র্যালি বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেন। এ সময় বিএনপির বিক্ষুদ্ধ কর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে র্যালি নিয়ে প্রেস ক্লাবের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশের কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর কারণে তা ভেস্তে যায়। ওই সময় বিএনপির কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের মিনিট দশেক ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
প্রেস ক্লাবের দিকে র্যালি নিয়ে যেতে না পেরে দলীয় কার্যালয়ের সামনেই বিক্ষোভ করেন দলটির নেতা-কর্মীরা। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, সদস্য সচিব আনিসুর রহমান লাকু, জেলা যুবদলের সভাপতি নাজমুল আলম নাজু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মনিরুজ্জামান হিজবুল, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নুর হাসান সুমন, সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম জীম প্রমুখ।
এ সময় জ্বালানি, সার, গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, ক্ষমতাসীনদের লাগামহীন অনিয়ম-দুর্নীতি ও পুলিশি রাষ্ট্র কায়েমের মধ্যদিয়ে সরকার বিরোধিশক্তি দমনে তৎপরতা বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ করেন বিএনপির নেতারা। পরে প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর হোসেনের স্মরণে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেন।
এদিকে সকাল থেকে একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিতের দাবিতে বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে প্রায় ৮০০ মিটার দূরে (চার মিনিটের পথ) রংপুর প্রেস ক্লাব চত্বরে কর্মসূচি পালনে মিলিত হন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। পরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান সফির সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মহানগরের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল, মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রমজান আলী তুহিন প্রমুখ। পরে সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এর আগে সকাল থেকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। হঠাৎ করে পুলিশের সরব উপস্থিতিতে কিছুটা সময়ের জন্য আতঙ্কিত ছিলেন রংপুর মহানগরবাসী।