চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে মানবপাচার মামলায় আইনজীবী জামাল হোসেন ও তার স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তারসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। বুধবার চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৭ এর বিচারক মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের আদালতে এ অভিযোগ গঠন করা হয়।
বাকি তিন আসামি রেজিয়া বেগম, এনায়েত উল্যা ও ফজলুল কাদের জামিনে মুক্তির পর থেকে পলাতক আছেন। অন্যদিকে আইনজীবী জামাল ও তার স্ত্রীর জামিন বহাল রয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারি কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ফজলুল কাদের ও আক্তার বানুকে সৌদি আরবে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন আইনজীবী জামাল হোসেন। বিমানবন্দরে তারা প্রবেশ করার পর জামাল হোসেন বাইরে অবস্থান করছিলেন বলে আক্তার বানু আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনজীবীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
অভিযুক্ত আইনজীবী জামাল হোসেন বলেন, আমার এক আত্মীয় বিদেশে চলে যাওয়ায় স্ত্রীকে নিয়ে বিমানবন্দরে গিয়েছিলাম। সেদিন গ্রেফতার হওয়া দুজনকে চিনি না। অভিবাসন পুলিশের করা মামলার এজাহারে আমাদের নাম নেই। দুই আসামির মিথ্যা স্বীকারোক্তিতে পুলিশ এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছিল। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাদের এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি রাত নয়টায় বাংলাদেশ বিমানে করে সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরের অভিবাসন পুলিশ ফজলুল কাদের ও আক্তার বানু ওরফে রেজিয়া বেগমকে আটক করে। দালালদের সহায়তায় মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে ওমরাহর নামে সৌদি আরব যাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় বিমানবন্দরের অভিবাসন শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম দুজনকে আসামি করে মানব পাচার আইনে রাতে থানায় মামলা করেন। অন্যদিকে এই দুজনকে বিমানবন্দরের ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন আইনজীবী জামাল ও তার স্ত্রী। রাতে র্যাব তাদের দুজনকে গ্রেফতার করে পতেঙ্গা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাদেরও মামলার আসামি করা হয়।
২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি মানব পাচার আইনে করা এই মামলায় আইনজীবী জামাল হোসেন ও তার স্ত্রীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর হলে আইনজীবীরা এজলাসে ভাঙচুর, মামলার নথি তছনছ ও বিচারকের খাসকামরার বাইরের জানালার কাচ ভাঙচুর করেন। ওই দিন আইনজীবীরা দুই ঘন্টাব্যাপী চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সামনে স্লোগান দিয়ে দুজনের জামিন চেয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ এলেও আইনজীবীদের বাধার মুখে ফিরে যায়। ওই দিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম এস এম মাসুদ পারভেজের আদালতে দ্বিতীয় শুনানির পর আইনজীবী ও তাঁর স্ত্রীর জামিন মঞ্জুর হয়। পরে বিক্ষুব্ধ আইনজীবীরা চলে যান। একুশে পত্রিকা