আর প্রতিবাদ নয়, প্রতিরোধ গড়তে হবে: ফখরুল

বঙ্গবাজারের অগ্নিকাণ্ড ‘দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারা সরকারের দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

- Advertisement -

তিনি বলেন, ‘এই সরকার একটা দায়িত্বজ্ঞানহীন সরকার। তারা কোথাও তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। বঙ্গবাজার অগ্নিকাণ্ডে হাজার কোটি টাকার কাপড় পুড়ে গেছে। কিছুদিন আগেও সিদ্দিক বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ২২ জন নিহত হলেন। এরপরও মানুষকে কিভাবে এসব দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করা যায়, তার কোনো পরিকল্পনা এ সরকার নেয়নি।’

বুধবার বিকালে রাজধানীর মালিবাগের একটি রেস্টুরেন্টে ১২ দলীয় জোট আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বঙ্গবাজারের অগ্নিকাণ্ড প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত একটা রিপোর্ট বের করতে পারেননি। অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনা বন্ধ করার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি। শুধু আগুন নয়, সড়কপথও যেন মৃত্যুকূপ। প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য লোক মারা যাচ্ছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করে একের পর এক বেআইনি কাজ করে যাচ্ছে। মঙ্গলবার কুমিল্লায় বিএনপির ইফতার মাহফিলের সময় পুলিশ হামলা চালায়। গ্রেফতার করা হয় ২৫ জন নেতাকর্মীকে। বুধবার সকালে নরসিংদী জেলা কমিটির সভায়ও পুলিশ হামলা চালায়। নাটোর, খুলনাসহ সারা দেশে বিএনপির সভায়, ইফতার মাহফিলে হামলা চালানো হচ্ছে।’

‘আর প্রতিবাদ নয়, প্রতিরোধ গড়তে হবে’ উল্লে­খ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখন আর কথা বলে কোনো কাজ হবে না। এখন আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এদেরকে আর যত সময় দেবেন, তারা আরও ক্ষতি করবে দেশের। কারণ এরা এই জাতির সবচেয়ে বড় ক্ষতি করছে। গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। ভোটাধিকার হরণ করেছে। বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করেছে। এদের কাছে কেউ নিরাপদ নয়। তাই এ সরকারের বিরুদ্ধে এবার রূখে দাঁড়াতে হবে। তাদের পতন ঘটিয়ে জনগণের সরকার গঠন করে মানুষকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করতে হবে।’

জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে ও জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদার সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিলে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম।

আরও উপস্থিত ছিলেন- জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নূর, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জামায়াত নেতা শামীম বিন সাঈদী, ১২ দলীয় জোটের শরিক দলের মধ্যে বাংলাদেশ এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাগপার ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, এনডিপির কারী আবু তাহের, গণদলের এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংকন প্রমুখ।

সর্বশেষ