ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন হলে সরকার টিকবে না: গয়েশ্বর

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আপনাদের বক্তব্য শুনে আমার ভালো লেগেছে। মনে হচ্ছে একটা কিছু হবে। কিন্তু বক্তব্যে দিয়েতো কোনো সরকার যায় না। এই সরকারের পতন ঘটাতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে হবে।

- Advertisement -

আজ মঙ্গলবার ঢাকা বিভাগীয় যুবদলের প্রতিনিধি সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যুবদলের ঢাকা বিভাগের সহসভাপতি রেজাউল কবির পলের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সহসভাপতি নুরুল ইসলাম নয়ন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুন রায় চৌধুরী, বিএনপি নেতা তমিজউদ্দিনসহ আরও অনেকে। পরে ইফতারে অংশ নেন তিনি।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন কিন্তু ভাষণে হয় নাই। স্বাধীন হয়েছে যুদ্ধে। সেই যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের আহ্বানের মধ্যদিয়ে। আপামর জনগণ তখন তাকে চিনতেন না। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন না। সেদিন জিয়াউর রহমানের পরিচয় কেউ জানতে চাননি। দেশবাসীসহ আওয়ামী লীগ নেতারাও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, বাংলাদেশে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মধ্যদিয়ে। যুদ্ধ চলমান। আন্তরিকভাবে তাকে ধন্যবাদ। যুদ্ধের পক্ষে বা বিপক্ষে সবাই জানে জিয়াউর রহমান সেদিন যুদ্ধের ডাক দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের অনেক সাংগঠনিক দুর্বলতা আছে। কর্মীদের মাঝে সাহস আছে, কর্মীদের মাঝে কিছু করার ইচ্ছা আছে। কিন্তু সংগঠিত না। আপনারা প্রত্যেকটি জেলা, থানাকে সাংগঠনিক পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়ে দেন। লোকের অভাব নেই। সবাইকে খুশি করতে পারবেন না, এক চেয়ারে দশজন বসতে চাইবে। সেটা অন্য কথা। কিন্তু সবাইকে সন্তুষ্ট করে সংগঠনকে ছিকায় তুলে রাখলে লাভ হবে না। যুব শক্তি বড় শক্তি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পায় হেঁটে সংগঠন করেছি। কখনো কখনো বাস, ট্রাক এক জেলা থেকে অন্য জেলায় গিয়েছি। নিজের গাড়িতে চড়ার কোনো সুযোগ হয়নি। শুধু আমিই না, আমাদের দশজন নেতার কারও গাড়ি ছিল না। আজকে এখানে এতো গাড়ি, তখন গাড়ি ছিল না। তাই যত হাঁটবেন ততো কর্মী বাড়বে। নেতা হাঁটলে কর্মীরা পালিয়ে যায় না। এতে নেতার ওপর আস্থা বাড়ে। কর্মীদের সঙ্গে আদর্শের সম্পর্ক, রক্তের সম্পর্ক নয়। রক্ত লাগলে সবার আগে আদর্শিক কর্মীরাই এগিয়ে আসবে। তাই সরকারের পতন ঘটাতে হলে রাজপথ থেকে কর্মী সংগ্রহ করে সংগঠনের দায়িত্ব দিতে হবে।

সর্বশেষ