মো.মুক্তার হোসেন: অধুমপায়ী ব্যক্তিত্ব হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে সম্মাননা প্রদান করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইপসা ও তামাক বিরোধী সংগঠন আত্মা। সাথে আরো তিন বিশিষ্ট অধুমপায়ী ব্যক্তিত্বকে সম্মাননা প্রদান করে এই দুই সংগঠন। সম্মাননা প্রাপ্ত এই তিন গুণীব্যক্তি হলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান ব্যক্তিগত কাজে বাইরে যাওয়ায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
গতকাল শনিবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে ইপসা ও আত্মার আয়োজনে সিটিএফকে’র সহযোগিতায় তামাকমুক্ত শহর গড়তে আমাদের করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভায় মেয়রসহ অপর তিন অধুমপায়ী গুণী ব্যক্তিত্বকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইপসার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম। তামাকমুক্ত শহর গড়তে ইপসা ও আত্মার সার্বিক কর্মকাÐের অগ্রগতি ও প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন ইপসার টীম লিডার নাছরিন বানু। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সম্মাননা প্রাপ্ত চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, সিটিএফকে’র চট্টগ্রাম ব্রাঞ্চের ম্যানেজার ডা. মাহফুজুল ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, আত্মার আহŸায়ক সাংবাদিক আলমগীর সবুজ, সদস্য লতিফা আনসারি লুনা প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, মাদক ও ধুমপান আমাদের নিজের পাশাপাশি পরিবেশ ও অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতি সম্মুখীন করে। তিনি বলেন, আমাদের ভবিষৎ প্রজন্মকে যোগ্য ও মেধাবী হিসেবে গড়ে তুলতে ধুমপান ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়া অত্যাবশ্যক। মেয়র বলেন, ৩২ শতাংশ যুব সমাজ হচ্ছে দেশের সম্পদ। তারা যাতে অসুন্দর অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকে এটাই আমাদের কাম্য। তিনি প্রত্যেক পরিবারের অভিভাবকরা ধুমপান থেকে বিরত থাকলে সন্তানদের রক্ষা করা সম্ভব বলে মতামত পেশ করেন। সিটি মেয়র ধুমপান ও মাদকমুক্ত শহর গড়তে ইপসা ও আত্মার নেতৃবৃন্দকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সব ধরণের সক্রিয় সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহাড়ে অবৈধ তামাক চাষ বন্ধ করে সীমানা প্রাচীর দিয়ে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি অধুমপায়ী ব্যক্তি হিসেবে তাকে সম্মাননা প্রদান করায় চবির ৫০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পক্ষ থেকে ইপসা ও আত্মাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
চট্টগ্রাম পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ধুমপানের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে মানুষের মাদকাসক্তের শুরু। ধুমপান ছাড়াও জর্দা ও সাদা পাতার মাধ্যমে মানুষ মাদকাসক্ত হয়। তিনি বলেন, দেশের বাইরে সীমান্ত এলাকায় মাদক, ইয়াবার কারখানা আছে। আর তা করা হয়েছে আমাদের দেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেয়ার জন্য। তাই দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবৈধ মাদক পাচার রোধে আন্তর্জাতিক মহলে আওয়াজ তুলতে হবে। শেষে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল অতিথিরা ধুমপান ও মাদক বিরোধী প্লে-কার্ড নিয়ে এই কার্যক্রমে সাথে তাদের একাত্মতা প্রকাশ করেন।