সমুদ্র সৈকতে গাঁজা খেতে বাধ সাধায় মোবাইল ডিউটিকে এক পুলিশ কমর্কর্তাকে পরিকল্পিত ‘মব’ তৈরি করে মারধর করেছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। ওই কর্মকর্তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ছাড়াও ছিনিয়ে নেওয়া হয় ওয়্যারলেস সেট।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের চরপাড়া ঘাটের কাছে।
জানা গেছে, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে স্থানীয় কিছু যুবক নিয়মিতই গাঁজা সেবন করে। রাত ১০টার দিকে মোবাইল ডিউটিতে থাকা পতেঙ্গা থানার এসআই ইউসুফ আলীর চোখে পড়ে কিছু যুবক গাঁজা সেবন করছে। সামনে এগিয়ে যুবকদের তিনি জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এর একপর্যায়ে যুবকরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে মাফ চাইলে সতর্ক করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
৩৬তম ব্যাচের এসআই ইউসুফ আলী তার চাকরিজীবনের শুরু থেকে ছিলেন নৌ-পুলিশে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি নৌ-পুলিশের বাইরে তার প্রথম পোস্টিং হয় চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) পতেঙ্গা থানায়। ফলে স্থানীয় অপরাধীচক্র সম্পর্কে তার ধারণাও ছিল না। এস আই ইউসুফ সহজ-সরল প্রকৃতির লোক বলে জানান তার সহকর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ভুল স্বীকার করে মাদকাসক্ত যুবকের দল ঘটনাস্থল ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই তারা আরও বেশকিছু লোককে সঙ্গে করে পতেঙ্গা সৈকতে ফিরে আসে। এ সময় এসআই ইউসুফ তার সঙ্গে থাকা টহল গাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে তার আগেই যুবকরা এসে তাকে প্রশ্ন করে— ‘আপনি তো ভুয়া পুলিশ। আপনার আইডি কার্ড কই?’ উত্তরের অপেক্ষা না করেই যুবকেরা মুহূর্তেই ঝাঁপিয়ে পড়ে এসআই ইউসুফের ওপর। তাকে এ সময় এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
একটি ভিডিওতে এসআই ইউসুফকে কাঁদতে দেখা যায়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলছিলেন, ‘আমার মোবাইল মানিব্যাগ ওয়্যারলেস সব নিয়ে গেছে ওরা।’
তার গায়ে আঘাতের লাল লাল ছোপ দেখা গেছে। চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে এসআই ইউসুফ বলছিলেন, ‘আমার মানসম্মান সব গেছে।’
ভিডিওর একপর্যায়ে অচেনা কিছু যুবককে ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ইউসুফের পকেটে ঢুকিয়ে যেতে দেখা গেছে।
ঘটনার বিস্তারিত জানতে রাত একটার দিকে এসআই ইউসুফের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কথা বলতে পারেননি।
এ বিষয়ে জানতে পতেঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি ‘ছুটিতে ঢাকায়’ আছেন বলে জানান।
পতেঙ্গা থানার ডিউটি অফিসারকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানালেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম বলতে পারেননি।
তবে ডিউটি অফিসার জানান, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এরপর বিস্তারিত জানানো যাবে।’সূত্র: চট্টগ্রাম প্রতিদিন