মো.মোক্তার হোসেন বাবু: দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও নাগরিক দাবির পর অবশেষে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় বহুল প্রতীক্ষিত র্যাম্প নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে আগ্রাবাদ, বন্দর এলাকা, বারিক বিল্ডিং মোড় এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট অনেকাংশে কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) জানিয়েছে, চলমান উড়ালসড়ক প্রকল্পের অংশ হিসেবে আগ্রাবাদে নতুন র্যাম্প নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নগরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদের সঙ্গে উড়ালসড়কের সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে। এতে যানবাহনের চলাচল আরও সহজ ও দ্রুত হবে।
দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং অনুমোদনসংক্রান্ত জটের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হতে যাচ্ছে শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়াল সড়কের বহুল প্রতীক্ষিত আগ্রাবাদ র্যাম্পের নির্মাণকাজ। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা দূর হওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে।
সিডিএর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়াল সড়ক যান চলাচলের জন্য চালু থাকলেও আগ্রাবাদ র্যাম্প নির্মাণ না হওয়ায় উড়াল সড়কটির পূর্ণ সুফল থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিলেন নগরবাসী।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুরুতে উড়াল সড়কের জন্য ১৫টি র্যাম্প নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও আপাতত ৬টি র্যাম্প স্থগিত রেখে ৯টি র্যাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭টি র্যাম্পের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে বাংলাদেশ বেতার, জীবন বীমা কর্পোরেশন, যমুনা অয়েল কোম্পানিসহ বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ভূমি ও স্থাপনা জটিলতার কারণে আগ্রাবাদ র্যাম্পের ভূমি অধিগ্রহণ, অনুমোদন এবং বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা চিঠি চালাচালির কারণে বছরের পর বছর কাজ আটকে ছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দায়িত্ব গ্রহণের পর সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত সম্পন্ন করার ঘোষণা দেন, শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়াল সড়ক প্রকল্প তার অন্যতম। তিনি আগামী নভেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে ডিসেম্বরে প্রকল্পটির উদ্বোধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পরদিনই তিনি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে আগ্রাবাদ র্যাম্প নির্মাণে সৃষ্ট জটিলতা সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান, মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জট নিরসনে উদ্যোগ নেন। সেই উদ্যোগের ফলেই বর্তমানে প্রকল্পস্থলে আগ্রাবাদ র্যাম্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়াল সড়কের পূর্ণ সুফল নগরবাসীর কাছে পৌঁছে দিতে আগ্রাবাদ র্যাম্প নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। র্যাম্প নির্মাণে যে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক জটিলতা ছিল, তা সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের সব কাজ সম্পন্ন করে নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত করতে চাই।’




