নিজস্ব প্রতিবেদক :জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, সরকারি চাকরি মানে শুধু সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস করা নয়, মানুষের প্রতি দায়িত্ব ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। সরকার যে দায়িত্ব দিয়ে একজন কর্মকর্তাকে চেয়ারে বসিয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কি না-প্রত্যেককে নিজেকেই সেই প্রশ্ন করতে হবে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি মানবিক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। নাগরিকেরা সেবা নিতে এসে যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রতিটি দপ্তরে দায়িত্বশীলতার দৃষ্টান্ত দেখতে পান, তা নিশ্চিত করা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ‘শুধু সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস করাই দায়িত্ব নয়। আমি যে উদ্দেশ্যে এই চেয়ারে বসেছি, সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছি কি না—এই প্রশ্ন প্রত্যেকের নিজের কাছে করা উচিত।
’
বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারি সেবাব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, গত ৫০ বছরে পৃথিবীর প্রায় সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু মানুষকে সেবা দেওয়ার পদ্ধতিতে কতটা পরিবর্তন আনা গেছে, সেটিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। পুরোনো ধ্যানধারণা আঁকড়ে না থেকে প্রযুক্তি, দক্ষতা ও মানবিকতার সমন্বয়ে সেবার মান বাড়াতে হবে।
প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ সততা, যোগ্যতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হলে প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা আরও বাড়বে। তাই প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে জনসেবা সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও নৈতিকতাও বজায় রাখতে হবে।
সমাজের অবক্ষয়, মাদকের বিস্তার ও পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হওয়ার দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, একটি সন্তান হঠাৎ করে বিপথে যায় না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আচরণ দেখেই সে শেখে। তাই সরকারি কর্মকর্তাদের এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে, যা নতুন প্রজন্ম অনুসরণ করতে পারে।
তিনি বলেন, ব্যক্তিগত অর্জন ও প্রতিযোগিতার পেছনে ছুটতে গিয়ে সমাজ ও পরিবারের প্রতি দায়িত্ব ভুলে গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী তৈরি করা সম্ভব হবে না। একে অপরকে দোষারোপ না করে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিবর্তনের দায়িত্ব নিতে হবে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, বড় পদ বা গুরুত্বপূর্ণ চেয়ার শুধু ক্ষমতার পরিচয় নয়; এটি মানুষের প্রতি দায়িত্ব ও জবাবদিহির প্রতীক। আন্তরিকতা, দক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে সরকারি দপ্তরের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে। একই সঙ্গে গড়ে উঠবে নিরাপদ, সুন্দর ও মানবিক সমাজ।




