নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতায় নতুন গতি এসেছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সৌরশক্তি, আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং মোংলা সমুদ্রবন্দরের উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে চীনা বিনিয়োগ ও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। সেখানে দুই দেশের সম্ভাব্য সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকে ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে দেখছে চীন
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সাম্প্রতিক এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের অংশীদারত্বে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে বিভিন্ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আমিনবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। চীনা প্রতিষ্ঠান সিএমইসির ব্যবস্থাপনায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ২ সেপ্টেম্বর চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে প্রকল্পটির চূড়ান্ত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ল্যান্ডফিলে জমে থাকা কঠিন বর্জ্য কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে চীনের পাওয়ার চায়নার সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা ও কৌশলগত কার্যক্রম চলছে।
দাশেরকান্দি প্রকল্পে চীনের অর্থায়নের আগ্রহ
ঢাকাকে আরও পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগারের অসমাপ্ত ও পরবর্তী পর্যায়ের কাজ এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। এ প্রকল্পের বাকি কাজ বাস্তবায়নে চীন সরকার ঋণের পাশাপাশি বড় অঙ্কের অনুদান দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
পরিকল্পনার আওতায় গুলশান, বারিধারা ও বনানীসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন নেটওয়ার্কের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।
সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ
জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সরকারি ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবনের খালি ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।
চীন সরকার ও দেশটির বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি ভবন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনে আগ্রহ দেখিয়েছে। নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে।
মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নে চীনের উদ্যোগ
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলাকে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় বন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে চীনের। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে মোংলা বন্দরের উন্নয়নমূলক অবকাঠামোর কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে কার্যকর সমুদ্র ও পণ্য পরিবহন সংযোগ গড়ে তুলতে চীন সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
সরকারের সংশ্লিষ্টদের আশা, দুই বন্দরের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি হলে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যয়ও কমতে পারে।




