spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

সাংবাদিক-পুলিশ পরিচয়ে বাসায় ঢুকে নারীকে জিম্মি, চাঁদাবাজির অভিযোগ; গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের হালিশহরের শ্যামলী আবাসিক এলাকায় সাংবাদিক ও পুলিশ পরিচয়ে একটি বাসায় ঢুকে নারী ও তাঁর দুই পুত্রবধূকে জিম্মি করে ভিডিও ধারণ, ঘরের আসবাবপত্র ও আলমারি তছনছ এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পাঁচজনের একটি দলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

- Advertisement -

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সম্প্রতি পাঁচজনের একটি দল শ্যামলী আবাসিক এলাকার ওই বাসায় গিয়ে কলিং বেল চাপ দেয়। দরজা খোলার পর তারা নিজেদের সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় তাদের কাছে থাকা পরিচয়পত্র দেখানোর পাশাপাশি একটি ওয়াকিটকি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বাসায় প্রবেশের পর ওই ব্যক্তিরা ঘরে থাকা প্রায় ৫৫ বছর বয়সী এক নারী ও তাঁর দুই পুত্রবধূকে জিম্মি করেন। পরে তারা বাসায় ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ড’ চলছে এমন অভিযোগ তুলে ঘরের বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে আলমারি ও আসবাবপত্র তছনছ করার পাশাপাশি নারীদের ভিডিও ধারণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, দলের সদস্যরা ওই ৫৫ বছর বয়সী নারীকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও শ্লীলতাহানি করে ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। মানসম্মানহানির ভয় দেখিয়ে চাপ সৃষ্টি করে ওই অর্থ আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

তবে পরিস্থিতির মধ্যে কৌশলে বিষয়টি তাঁর ছেলেদের জানাতে সক্ষম হন ভুক্তভোগী। খবর পেয়ে স্বজনরা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানালে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করেছেন। মামলায় অনধিকার প্রবেশ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদা দাবি, নারীকে হেনস্তা এবং ভিডিও ধারণসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অভিযুক্তরা সত্যিই সাংবাদিক বা পুলিশ পরিচয়ের বৈধ দাবিদার কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, সাংবাদিক বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে কোনো বাসায় প্রবেশ, নারীদের জিম্মি করে ভিডিও ধারণ কিংবা ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

সর্বশেষ