মো. মোক্তার হোসেন বাবু
চট্টগ্রাম নগরীতে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে। ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে তাই শুধু সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে নগরবাসীকেও নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেছেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা সম্ভব হলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। এ জন্য ঘরবাড়ি, ছাদ, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচে এবং নির্মাণাধীন ভবনসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেসব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শুক্রবার নগরীর পতেঙ্গার কমিশনার ঘাটা, দক্ষিণ পাড়া ও বাটারফ্লাই রোড এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও নাগরিক সচেতনতামূলক অভিযান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘তিন দিনে একদিন জমা পানি ফেলে দিতে হবে। নিজ আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখতে হবে।’ বাসাবাড়ি ও আশপাশে কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে অল্প সময়ের মধ্যেই এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হচ্ছে কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করা।
বিটিআই ও ফগিংয়ে জোর
চসিকের চলমান মশক নিধন কার্যক্রম তুলে ধরে মেয়র বলেন, এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করতে বিটিআই পদ্ধতিতে ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ মশা নিধনে ফগার মেশিনের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মেয়র বলেন, চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো এলাকায় ঠিকমতো ওষুধ ছিটাচ্ছেন না কিংবা কাজে গাফিলতি করছেন—এমন অভিযোগ থাকলে নাগরিকরা তা সরাসরি কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারবেন। ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যেখানে পানি, সেখানেই ঝুঁকি
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদের সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেয়র বলেন, যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন, ডাবের খোসা ও পরিত্যক্ত পাত্র ফেলে রাখা যাবে না। এসব সামগ্রীতে বৃষ্টির পানি জমে এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হতে পারে।
তিনি নগরবাসীকে বাড়ির ছাদ, আঙিনা ও আশপাশের ঝোপঝাড় নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি পরিত্যক্ত পাত্র ও অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে ফেলার আহ্বান জানান।
মেয়র জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামী তিন মাসের জন্য দেশব্যাপী নেওয়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে চট্টগ্রাম নগরীতেও মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
কয়েকটি এলাকা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ
চট্টগ্রাম নগরীর কয়েকটি এলাকাকে ডেঙ্গুর তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, কোতোয়ালি, ডবলমুরিং, পাহাড়তলী, হালিশহর ও বন্দর এলাকায় বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। এসব এলাকায় মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মেয়র বলেন, কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। আগামী দিনগুলোতে ডেঙ্গুতে আর একজন মানুষও যেন প্রাণ না হারান, সেটিই তাদের লক্ষ্য। এ জন্য সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরবাসীকেও স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।
নগরবাসীর উদ্দেশে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আপনাদের পাশে আছে এবং থাকবে। তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীল হতে হবে।’
তিনি বলেন, সবাই মিলে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখলে এবং কোথাও পানি জমতে না দিলে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।




