জনগণের তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করাই লক্ষ্য: প্রধান তথ্য কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক :
spot_img

তথ্য কমিশন কোনো ব্যক্তি বা সরকারের স্বার্থে নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান। জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করা, কমিশনের কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের জন্য প্রতিষ্ঠানটির সেবা সহজলভ্য করাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

রোববার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রধান তথ্য কমিশনার। এ সময় তথ্য কমিশনার খান মোহাম্মদ আবুল হোসেন ও এসএএম মাহফুজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমবারের মতো তথ্য কমিশনে নারী সদস্য নিয়োগ এবং নতুন কমিশনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ড. নাহরিন ইসলাম খান বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের পরিচয়ের চেয়ে দায়িত্ববোধই গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে তথ্য কমিশন থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারেনি। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিয়োগের ঘাটতিও ছিল। নতুন কমিশন একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এবং মানুষের তথ্য পাওয়ার অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধান তথ্য কমিশনার বলেন, তথ্য কমিশনের কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। ফলে তথ্য পাওয়ার অধিকার থাকলেও অনেকেই জানেন না কীভাবে সেই অধিকার প্রয়োগ করতে হয়। এ পরিস্থিতিতে কমিশনের প্রাথমিক দায়িত্ব হবে জনগণকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পর্কে জানানো এবং সহজ পদ্ধতিতে তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা।

তিনি আরও বলেন, তথ্য কমিশন ও মানবাধিকার কমিশন একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। জনগণের অধিকার সুরক্ষায় এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। নতুন কমিশন মানুষের কাছে পৌঁছানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেবে।

ড. নাহরিন ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশের সব মানুষের জন্য তথ্য কমিশনের দরজা খোলা থাকবে। তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার প্রতিষ্ঠায় কমিশন কাজ করবে। কোনো বিশেষ ব্যক্তি কিংবা সরকারের স্বার্থ নয়, জনগণের অধিকারই হবে কমিশনের কার্যক্রমের মূল বিবেচ্য বিষয়।

এদিকে তথ্য কমিশনার এসএএম মাহফুজুর রহমান বলেন, এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পিচ রাইটার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে রয়েছেন। গত ১৭ বছরে তথ্য কমিশনের কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে কীভাবে জনগণের কল্যাণে আরও কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, তথ্য পাওয়ার অধিকার কেবল সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। তথ্যের স্বচ্ছতা, সঠিক প্রবাহ ও নিষ্ঠা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সামাজিক কল্যাণ এবং রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখতে চায় কমিশন।

তথ্য কমিশনার আরও বলেন, তথ্যপ্রাপ্তি নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কমিশন সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। জনগণের পাশে দাঁড়ানো এবং তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে নাগরিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই হবে তাদের অঙ্গীকার।

কমিশনের কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে এসএএম মাহফুজুর রহমান বলেন, রোববার থেকেই কমিশনের কাজ শুরু হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়। প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করে তাঁরা জনগণের সামনে আসবেন। একই সঙ্গে মানুষের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সর্বশেষ