নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউরোপের তিন দেশ থেকে আরও ৩৫ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন রয়েছেন। শুক্রবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে (পিভিজি ৯৪৪৫) তাঁরা ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানো ও পুনরায় জীবন গুছিয়ে নিতে সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। বিমানবন্দরে তাঁদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং বাড়ি ফেরার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় এসব সহায়তা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরবর্তী সময়ে কাউন্সেলিং ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ফেরত আসা ব্যক্তিদের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, গত কয়েক বছরে ইউরোপ থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতালি, গ্রিস ও জার্মানি থেকে আসা মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। দেশে ফেরার পর তাঁদের বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা ও কাউন্সেলিং দেওয়া হয়। পরে অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হয়।
তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিয়মিত পথে ইউরোপে যাওয়া নিরুৎসাহিত করতে দেশজুড়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশ থেকে বৈধ পথে কর্মী নেওয়ার উদ্যোগও নিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে অনিয়মিতভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সরকার ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) চুক্তি করে। এ ব্যবস্থার আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক এসেছেন সাইপ্রাস, ইতালি, রোমানিয়া ও ফ্রান্স থেকে।
ইউরোপ থেকে ফেরত আসা ব্যক্তিদের জন্য দেশে ফিরে কর্মসংস্থান ও জীবিকা পুনর্গঠন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ পরিস্থিতিতে জরুরি সহায়তার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের উদ্যোগ তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ সহজ করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

