মোঃ রাকিব চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকবিরোধী অভিযানে এক দিনে ৭৮৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে ১ লাখ ৮ হাজার ৯৯৮টি ইয়াবা, ১০ কেজি ১৩০ গ্রাম গাঁজা, ৯০ লিটার চোলাই মদ এবং দুই বোতল স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে গত ২৪ ঘণ্টার অভিযানের এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নিয়মিত মামলার আসামি ১১১ জন, আগের মামলার আসামি ৫৩ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ১৫ জন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় চারজন রয়েছেন। এ ছাড়া ১৫১ ধারা ও অন্যান্য আইনে ২৩ জন, বিভিন্ন পরোয়ানাভুক্ত ৯২ জন এবং সাজা পরোয়ানাভুক্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মাদকসংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও ২৭ জনকে। তাদের মধ্যে একজন মাদক বহনকারী এবং ২৬ জন মাদকসেবী। পাশাপাশি নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে আরও ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানে মোট ২৯টি মামলা করা হয়েছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৫৫০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে।
নিষিদ্ধ সংগঠনের ২৩ সদস্য গ্রেপ্তার
চট্টগ্রাম রেঞ্জের বিভিন্ন জেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের ২৩ সদস্যকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ফেনীতে ১৩ জন, চট্টগ্রামে তিনজন, কুমিল্লায় দুইজন এবং নোয়াখালীতে দুইজন রয়েছেন। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি থেকে একজন করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪৭৪
কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৪৭৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৭৮ জনের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৯৬ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে কুমিল্লায় সর্বোচ্চ ১৭৫ জনকে আটক করা হয়েছে। চট্টগ্রামে ৯৫ জন, লক্ষ্মীপুরে ৬৩ জন, নোয়াখালীতে ৫৪ জন এবং চাঁদপুরে ৩৯ জন আটক হয়েছেন।
এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৩ জন, খাগড়াছড়িতে ১৫ জন, কক্সবাজারে নয়জন এবং রাঙামাটিতে একজনকে আটক করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের এ অভিযানে মাদক উদ্ধার, বিভিন্ন মামলার আসামি গ্রেপ্তার এবং কিশোর গ্যাংবিরোধী পদক্ষেপের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়।

