নেতানিয়াহুর হাতে আর নিরাপদ নয় ইসরাইল’, বিস্ফোরক দাবি বিরোধী নেতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
spot_img

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির বিরোধী নেতা এবং সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। তাঁর দাবি, নেতানিয়াহু এখন আর দেশ পরিচালনার উপযুক্ত অবস্থায় নেই। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার যে ধারণা তিনি সামনে এনেছেন, তা ইসরাইলের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

- Advertisement -

ইসরাইলের আগামী নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এসব মন্তব্য করেন ‘ইয়াশার’ পার্টির নেতা আইজেনকোট।

বার্তায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ইসরাইলি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি, সামরিক বাহিনীকে দুর্বল করা এবং দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। আইজেনকোটের ভাষ্য, বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নেতানিয়াহু এমন কিছু পরিকল্পনার কথা বলছেন, যা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে ইসরাইলকে পরিচালনার ঝুঁকি বাড়াবে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ও ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়লে ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অর্থ লেনদেনের সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন নেতানিয়াহু। তাঁর এই বক্তব্যকে কটাক্ষ করে আইজেনকোট এর নাম দেন ‘বিবি কয়েন’।

আইজেনকোট প্রশ্ন তোলেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সির ওপর নির্ভর করে ইসরাইল কীভাবে বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। তাঁর আশঙ্কা, এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ইসরাইলি প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে এবং বিদেশি বিনিয়োগ কমে যেতে পারে।

বিরোধী এই নেতার মতে, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দেশের কর্মসংস্থান ও সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের ওপর। অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হলে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক খাতে ব্যয় কমানোর পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। এতে দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নেতানিয়াহুর অর্থনৈতিক ভাবনা নিয়ে শুধু রাজনৈতিক বিরোধীরাই নয়, ইসরাইলের অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং খাতের কর্মকর্তারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের সমালোচনার মূল বিষয় হলো, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদে একটি দেশের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ইসরাইলের অর্থনৈতিক অবস্থান সম্পর্কেও নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে।

গাজায় যুদ্ধ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি সামরিক অভিযানের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশটির ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে।

নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক নীতিকে ঘিরে বিরোধীদের এই সমালোচনা দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক লড়াইকে আরও জোরালো করেছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

সর্বশেষ