মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের পরিকল্পনা নির্ধারিত সময়ের আগেই বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের সুরক্ষায় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। তবে কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল করার সুযোগও দিচ্ছে তেহরান।
তিনি জানান, মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সাত দিনের পরিকল্পনাটি কীভাবে এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে।
কী রয়েছে ইরানের সাত দিনের পরিকল্পনায়?
গত সেপ্টেম্বরে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সাত দিনের একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করে ইরান। কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছিল। সে সময় আরাগচি জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধবিরতিসহ প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।
তবে হরমুজ প্রণালি চালুর পাশাপাশি তেহরানের আরও কিছু দাবি রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করা, দেশটির তেল খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।
সমঝোতায় কাতারের মধ্যস্থতা
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বুধবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে কাতারের নেতৃত্বে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা কাজ করছেন। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যাতে নতুন করে যুদ্ধ শুরু না হয়, সে বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও আঞ্চলিক বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে জাতিসংঘের পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দিতে তেহরানকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে কাতার। বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।
ইরানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরান সফর করে। সফরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি, সর্বশেষ কূটনৈতিক আলোচনা, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ এবং জ্বালানি সরবরাহের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।
যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সমঝোতা হলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনের পথ তৈরি হতে পারে। তবে এসব প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

