সাংবাদিক আলিফের মৃত্যুর পর বিপাকে পরিবার, স্ত্রীর চাকরির ব্যবস্থা করলেন ডেপুটি স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক :
spot_img

সন্ত্রাসীদের গুলিতে স্বামী নিহত হওয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন খাদিজা আক্তার। যে মানুষটি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, তার মৃত্যুতে থমকে যায় পুরো সংসার। ছোট্ট দুই শিশুর কাছে বাবার অনুপস্থিতি এখনো যেন অবিশ্বাস্য। তারা প্রতিনিয়ত বাবাকে খুঁজে বেড়ায়। বাবার কাছ থেকে লজেন্স নেওয়ার আশায় ঘরের এদিক-সেদিক ছুটে বেড়ায়। কিন্তু তাদের অপেক্ষার মানুষটি যে আর কখনো ফিরে আসবেন না, তা যেন কিছুতেই বুঝতে পারছে না শিশুরা।

- Advertisement -

একদিকে দুই সন্তানের ভরণ-পোষণ, অন্যদিকে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় ও অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা—সব মিলিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের স্ত্রী খাদিজা আক্তার। স্বামীর মৃত্যুর পর কীভাবে সংসারের হাল ধরবেন, তা নিয়ে যখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটছিল তার, ঠিক তখনই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

খাদিজার অসহায়ত্ব ও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার। রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতাল ল্যাবএইডে নার্স হিসেবে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছেন খাদিজা।

চাকরিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে খাদিজা আক্তার জানান, বর্তমানে দুই সন্তান ও মাকে নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন তিনি। আপাতত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাজধানীতেই থাকার পরিকল্পনা করেছেন।

খাদিজা বলেন, ‘ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আমার চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। স্বামীর মৃত্যুর পরপরই তিনি নগদ এক লাখ টাকা এবং পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক পাঠিয়েছিলেন। এবার সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার থেকে কাজে যোগ দিয়েছি। দুই সন্তান ও মাকে নিয়ে ঢাকায় এসেছি। আপাতত এখানেই থাকব। তিনি আমাদের সংসারে ঈশ্বরের দূত হয়ে এসেছেন। তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’

খাদিজার এই চাকরি শুধু একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ নয়, বরং স্বামীকে হারিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়া একটি পরিবারের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর আশার আলো। নিজের উপার্জনের মাধ্যমে সন্তানদের লালন-পালন ও পরিবারের দায়িত্ব সামলানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে তার সামনে।

স্বামীর মৃত্যুর শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি খাদিজা। তবে দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে নতুন করে পথচলা শুরু করেছেন তিনি। কঠিন পরিস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সহযোগিতা তার পরিবারকে নতুন করে বাঁচার সাহস জুগিয়েছে।

একটি বিপর্যস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে খাদিজার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার ঘটনাটি মানবিক সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।

সর্বশেষ