পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে আজ বসছে ছয় সদস্যের বোর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক :
spot_img

দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ, বেতন বাড়ানোর দাবি ও একের পর এক কারখানা বন্ধের পরিস্থিতির মধ্যে শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে গঠিত ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রথম বৈঠকে বসছে। এই সভার মধ্য দিয়েই বোর্ডের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।

- Advertisement -

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম বৈঠকে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়া, পরবর্তী কার্যক্রম এবং শ্রমিক ও মালিকপক্ষের বিভিন্ন দাবি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির প্রত্যাশা, কারখানার আর্থিক সক্ষমতা এবং বর্তমান শিল্প পরিস্থিতি গুরুত্ব পেতে পারে।

এর আগে গত রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই দিন এ বিষয়ে দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনও জারি করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

বর্তমানে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে একজন শ্রমিকের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, এই মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। তাঁদের ভাষ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাড়িভাড়া ও যাতায়াত খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই নতুন মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা।

এদিকে মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা আসার পরও শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষের অবসান হয়নি। গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা, মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকটি কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

বিজিএমইএর গত ১ নভেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলের ৫২৯টি কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়। ওই দিন প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার শ্রমিক কর্মস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যান। বুধবারও বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও কারখানা বন্ধ থাকার খবর পাওয়া গেছে। এতে পোশাকশিল্পের উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানিয়েছেন, দ্রুত মজুরি বোর্ডের বৈঠক আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এ বিষয়ে তাঁরা আশাবাদী। একই সঙ্গে কারখানাগুলো সচল রাখার চেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। শিল্প ও শ্রমিক—উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় ভাঙচুর ও বিক্ষোভের মতো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান বিজিএমইএ সভাপতি।

এখন সবার নজর মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠকের দিকে। এই বৈঠকের মাধ্যমে নতুন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া কতটা এগোয়, তা জানতে অপেক্ষা করছেন পোশাকশ্রমিক ও শিল্পসংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ