আগামী দুই মাসের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন কার্যকর হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :
spot_img

নিজস্ব প্রতিবেদক : পোশাকশ্রমিকদের দীর্ঘদিনের মজুরি বৃদ্ধির দাবি বিবেচনায় নিয়ে আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে গঠিত মজুরি বোর্ড ইতিমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। নতুন মজুরি নির্ধারণের মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের আশাও প্রকাশ করেন তিনি।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, শ্রমিকদের মজুরিসংক্রান্ত দাবি বিবেচনায় নিয়ে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে নতুন নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে শ্রমিক ভাই-বোনেরা আগের চেয়ে ভালো থাকতে পারবেন।

পথসভায় প্রধানমন্ত্রী দেশের শিল্পকারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সরকার প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালে দেশের মানুষ যেভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল, ভবিষ্যতেও ষড়যন্ত্রকারীদের একইভাবে জবাব দেওয়া হবে। দেশের শিল্পকারখানা জনগণ ও শ্রমিকদের সম্পদ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারখানা ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন শ্রমিক ও তাঁদের সন্তানেরা। তাই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

বিগত ১৫-১৬ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, ওই সময়ে মানুষের ভোটাধিকার হরণ এবং দেশ থেকে অর্থ-সম্পদ পাচারের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে সীমান্তের ওপার থেকে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন দেশ গঠন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সময়। নির্বাচিত সরকার দেশের সমস্যা সমাধান, শিল্পের বিকাশ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে কাজ করছে। বিএনপি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সরকার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবে।

নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে বিশেষ করে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো হবে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, একসময় খুলনা ছিল দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। কিন্তু নানা কারণে এ অঞ্চলের অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরের পঞ্চগড় পর্যন্ত নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চায়। এ লক্ষ্যে হাজার হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে সকালে মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।

কাটাখালীর পথসভা শেষে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।

সর্বশেষ