শ্রীধরন শ্রীরামকে মিডিয়ার সামনে খুব একটা আসতে দেখা যায় না। আড়ালে থেকে কাজ করতেই পছন্দ করেন তিনি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সোমবারের প্রস্তুতি ম্যাচের শুরু থেকে যেমন ব্যস্ত ছিলেন খাতা-কলম নিয়ে। কোচের হাতের ওই খাতাতেই লিপিবদ্ধ করা হয়েছে টিম কম্বিনেশন টালি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্ব শেষ হওয়ায় তালিকা থেকে বিশ্বকাপ ম্যাচের জন্য সেরা একাদশ বেছে নেবেন তিনি। কোচ হয়তো আজ থেকেই সেরা কম্বিনেশনে চলে যাবেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে সেরা একাদশ খেলানো হতে পারে বলে জানান প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু।
বাংলাদেশের সেরা কম্বিনেশন বেছে নিতে এশিয়া কাপ থেকেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। একটি ওপেনিং জুটি খুঁজে পেতেই লেগে গেছে ৯টি ম্যাচ। শ্রীরাম মেকশিফট ওপেনার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকেই। বিশ্বকাপের নিয়মিত ওপেনার দিয়েই ইনিংস ওপেন করানো হতে পারে। লিটন কুমার দাসের সঙ্গে জুটি বাঁধতে পারেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তিন নম্বর পজিশনটি খেলতে পারেন সৌম্য সরকার। কোচেরও সৌম্যকে ভালো লেগে গেছে। এত দিন তিনে খেলা সাকিবকে দেখা যেতে পারে চারে। যদিও ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে ফিরতি লেগ ম্যাচে সৌম্যকে ওপেনিং পজিশনে দিয়ে লিটন তিনে, সাকিব চারে খেলেছেন। শান্ত-সৌম্যর ওপেনিং জুটি ফেল করলেও লিটন-সাকিব ছিলেন দুর্বার। তবে দুশ্চিন্তার নাম মিডলঅর্ডার। কিছুদিন আগেও যে মিডল অর্ডার নিয়ে গর্ব করা যেত, সেখানেও লেগেছে ব্যর্থতার মিছিল।
আফিফ হোসেন, ইয়াসির আলী রাব্বি, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নুরুল হাসান সোহানদের ছন্দে না থাকা দুশ্চিন্তা বাড়ায়। চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ার জন্য এই চার ব্যাটারকে ছন্দে পাওয়া খুবই প্রয়োজন। কারণ, বাংলাদেশের টপঅর্ডারের ওপর ভরসা করা যায় না।
কম্বিনেশন যেমনই হোক, ব্যাটারদের ভালো করার মানসিকতা দেখাতে হবে। তাঁরা ঝোড়ো ব্যাটিং করতে না পারলেও ক্যামিও ইনিংস চাই দলের। নান্নুর মতে এই কাজটি করতে হবে ক্রিকেটারদেরই, ‘আমরা যাদের নির্বাচন করেছি, তাদের যথেষ্ট সামর্থ্য আছে। অন্য ফরম্যাটে তারা যথেষ্ট ভালো খেললেও এই ফরম্যাটে ভুগছে। অস্ট্রেলিয়ায় এসে মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছে, আরেকটা ম্যাচ আছে বিশ্বকাপ শুরুর আগে। ওরা নিজেরাও চিন্তা করছে, কীভাবে ভালো খেলা যায়। প্রতিটি জিনিস নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, প্রতিটি বিভাগ নিয়ে কথা হচ্ছে, প্রতিটি মুহূর্ত নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে- আমরা যাতে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি। আমি আশা করি, আগামীকালের (আজ) প্র্যাকটিস ম্যাচের পরই দলটি পুরোপুরি দলীয়ভাবে চেষ্টা করবে এবং বিশ্বকাপে পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়ে নামবে।’ আপাতত বোলিং বিভাগ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। পেস বোলিং বিভাগ সেরা ছন্দে রয়েছে। তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে শরিফুল ইসলাম ও এবাদত হোসেন চৌধুরীকে নিয়ে পেস ইউনিট। ভালো বিকল্প হাতে থাকায় দুশ্চিন্তামুক্ত কোচ। প্রথমবার বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া এবাদত ভালো কিছু করে দেখাতে চান। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ভালো করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তিনি, ‘আমরা এত দিন যেটা করেছি, সেটা অতীত। বিশ্বকাপ হলো ক্রিকেটারদের মেলে ধরার মঞ্চ। দেখবেন, টুর্নামেন্টে ভালো ক্রিকেট খেলব আমরা।’ স্পিন বিভাগও কন্ডিশন বিচারে শক্তিশালী। সাকিব আল হাসানের মতো বাঁহাতি স্পিনারের সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজ, মোসাদ্দেক হোসেন খেলবেন নিয়মিত একাদশে। সৌম্যকে দিয়েও এক-দুই ওভার করাতে পারবেন অধিনায়ক। সেদিক থেকে দেখলে বোলিং নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। বিশ্বকাপে ভালো করা না করার পুরোটাই নির্ভর করছে ব্যাটারদের ওপর। সেরা কম্বিনেশনে সেরাটা উপহার দিতে পারলেই দল খুশি।