মো.রাশেদ :: পিবিআই প্রধান, অ্যাডিশনাল আইজিপি, জনাব বনজ কুমার মজুমদার, বিপিএম (বার), পিপিএম এর সঠিক তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই, চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিট প্রধান পুলিশ সুপার জনাব নাইমা সুলতানা, পিপিএম-সেবা’র নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) জনাব ইখতিয়ার উদ্দিন এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স সহ পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো এর আভিযানিক দল কতৃক পুলিশি অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ইং ১৬/০৩/২০২৩ তারিখ বিকাল অনুমান ১৬.৪০ ঘটিকা হতে পরবর্তী সময়ে সিএমপি, চট্টগ্রাম আওতাধীন হালিশহর থানাধীন বড়পোলস্থ নবাব রেস্তোরা এন্ড বিরানী হাউস এর ভিতর হতে এবং সদরঘাট থানাধীন সিটি কলেজের পশ্চিম পাশে অমরচাঁদ রোড সংলগ্ন সিটি কম্পিউটার এবং ফটোষ্ট্যাট এর দোকান হতে অভিযুক্ত আসামী ১) মোঃ মঞ্জুর আলম প্রকাশ বাপ্পী (৪৮) পিতা- মৃত আবুল হাসেম, মাতা-হোসনে আরা বেগম, সাং- মৌলভী অসি উদ্দিনের বাড়ী, ইসহাক ডিপো মুন্সিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় এর পেছনে, ৩৭ নং সিটি ওয়ার্ড়, থানা- বন্দর, জেলা-চট্টগ্রাম ও ২)টিপু দাশ (৩৫), পিতা-রবীন্দ্র দাশ, মাতা-মুন্নি দাশ, সাং-৫২ নং,গুর্খা ডাক্তার লেইন রবীন্দ্র দাশের বাসা পাথরঘাটা, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-চট্টগ্রাম দ্বয়কে গ্রেফতার করা হয় গত ইং ১১/৯/২০২২ খ্রিঃ জনাব নাইমা সুলতানা, পিপিএম-সেবা, বিপি নং ৭৯০৬১২০৯১০, পুলিশ সুপার, পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো, চট্টগ্রাম তাঁহার কার্যালয় স্বারক নং- পিবিআই/চট্টগ্রাম মেট্রো/১০৮৫২ তারিখ ১৯/৯/২০২২ খ্রিঃ মূলে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা নং ১০/২০২১ ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সং/০৩) এর ১১(গ)/৩০ বিষয়ে বিজ্ঞ আদালতের আদেশের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতঃ প্রতিবেদন দাখিলকরার জন্য পুলিশ পরিদর্শক জনাব ইখতিয়ার উদ্দিন এর নামে হাওলা করেন। উক্ত আদেশে বিজ্ঞ আদালত উল্লেখ করেন যে, মামলার বাদীনি মোত মাহিন সাজেদা বেগম ৮,০০,০০০/- (আট লক্ষ) টাকা দেনমোহরে উল্লেখিত একটি কাবিননামা বিজ্ঞ আদালতে উপ ̄’াপন করেন। অপরদিকে আসামী মোঃ মাহবুব আলম বিগত ১৬/০৩/২০২২ খি. তারিখে ফিরিস্তি যোগে কাজী মৌলানা জামাল উদ্দিনের স্বাক্ষর যুক্ত বিবাহের কাবিননামার একটি সত্যায়িত প্রতিলিপি দাখিল করেন। যাহাতে দেনমোহরের পরিমান ১,০০,০০১ (এক লক্ষ এক) টাকা উল্লেখ আছে। পরবর্তীতে আসামী মাহবুব আলম পুনরায় ৩০/৬/২০২২ খ্রিঃ তারিখে ফিরিস্তি মূলে তার সাথে বাদীনির বিবাহ সংμান্তে ৩,০০,০০০/-(তিন লক্ষ) টাকা দেনমোহরের পরিমান উল্লেখিত আরো একটি কাবিননামা দাখিল করেন।এমতাবস্থায় একই বর কনের বিয়ে সংμান্তে ভিন্ন ভিন্ন দেনমোহর পরিমানের ৩টি কাবিননামা আদালতে উপস্থিত হওয়ায় এই বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ সুপার পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো বাংলাদেশ পুলিশকে নির্দেশ প্রদান করেন। উক্ত আদেশের প্রেক্ষিতে তদন্তককারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক জনাব ইখতিয়ার উদ্দিন উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নির্দেশে ঘটনা সত্যতা যাচাই ও আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণের লক্ষে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো সাধারন ডায়রী নং-১৪১, তারিখ ১৬/০৩/২০২৩ ইং মূলে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্নস্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান পরিচালনা কালীন গোপন সূত্রে সংবাদ প্রাপ্ত হয়ে ইং ১৬/০৩/২০২৩ তারিখ বিকাল অনুমান ১৬.৪০ ঘটিকার সময় চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানাধীন বড়পোল এলাকায় নবাব রেস্তোরা এন্ড বিরানী হাউস এ উপস্থিত হয়ে ঘটনায় জড়িত ১নং আসামী মঞ্জুর আলম বাপ্পিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জাল কাবিননামা সৃজনের সাথে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং তার সাথে থাকা ইংরেজিতে লেখা একটি যার বাম পার্শ্বের উপরে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর ডান পার্শ্বে সীল মোহর যুক্ত, নিচের বাম পার্শ্বে এবং ডান পার্শ্বে এর নামী সিলযুক্ত স্বাক্ষর সম্বলিত, যাতে বরের নাম এবং কনের নাম এর এক পাতা ইংরেজিতে লেখা একটি যার বাম পার্শ্বের উপরের অংশে এবং নিচের বাম পার্শ্বে এর সিল মোহর যুক্ত আছে এবং অপর পৃষ্ঠায় উল্লেখ পূর্বক সিল মোহরযুক্ত স্বাক্ষর সম্বলিত, যাতে বরের এবং কনের নাম এর ইংরেজিতে লেখা একটি ঘঅগঅ যার উভয় পৃষ্ঠায়,স্বাক্ষর সম্বলিত ও সীল মোহরযুক্ত জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করে। ধৃত আসামী মঞ্জুর আলম বাপ্পি ধর্তব ̈ অপরাধের সাথে জড়িত আছে মর্মে প্রাথমিক সাক্ষ্য প্রমান পাওয়ায় তাকে আলামতসহ হেফাজতে গ্রহণ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়-সে তার সিন্ডিকেট এর সহায়তায় দীর্ঘদিন যাবত জাল কাবিননামা সৃজন এবং গ্রাহকের চাহিদা মোতাবেক সরবরাহের সাথে নিয়োজিত আছে। এছাড়া জনৈক কাজী জামাল উদ্দিনের সহযোগী আজাদ তাদের এই কর্মকান্ডে সক্রিয় সহযোগীতা করে আসছে। তার দেয়া তথ্য ও সনাক্তমতে সদরঘাট থানাধীন সিটি কলেজের পশ্চিম পাশে অমরচাঁদ রোড সংলগ্ন সিটি কম্পিউটার এবং ফটোষ্ট্যাট এর দোকানে উপস্থিত হয়ে ২নং আসামী টিপু দাশকে এই সংক্রান্তে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে টিপু দাশ উক্ত সিন্ডিকেটের সাথে তার সঙ্গীয় সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জানায় তার দোকানের কম্পিউটার ও সিপিইউ ব্যাবহার করে দীর্ঘদিন যাবত চাহিদা মোতাবেক জাল কাবিননামা ছাপিয়ে আসছে। আসামী টিপু দাশ এর উপস্থাপন মতে কাবিননামা জালিয়াতি কাজে ব্যাবহৃত একটি কালো রংয়ের কম্পিউটার সিপিইউ, যাহার সামনের অংশে ইংরেজিতে লিখা জব্দতালিকা মূলে জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ধৃত আসামী ১) মোঃ মঞ্জুর আলম প্রকাশ বাপ্পী (৪৮) ও ২) টিপু দাশ (৩৫) তাদের সহযোগী পলাতক আসামী মোঃ আজাদ সহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন আসামীর সহায়তায় চট্টগ্রাম শহর সহ আশপাশ এলাকায় নিরীহ সহজ-সরল মানুষকে প্রতারিত করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সৃজিত কাবিননামা সরবরাহ করে। জাল কাবিননামা সমূহ বিজ্ঞ আদালত সহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে ব্যবহারের ফলে পরবর্তীতে আইনী জটিলতার সৃষ্টি হয়। উক্ত জালিয়াত চক্রের নিকট হতে গৃহীত জাল কাবিননামা সমূহের কারণে নিরীহ সহজ-সরল মানুষজন পরবর্তীতে আইনী জটিলতার সম্মুখীন হয়। ধৃত আসামী ১) মোঃ মঞ্জুর আলম প্রকাশ বাপ্পী (৪৮) ও ২) টিপু দাশ (৩৫) তাদের সহযোগী পলাতক আসামী মোঃ আজাদ সহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন আসামীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা তথা নিয়মিত মামলা রুজু করার নিমিত্তে পুলিশ পরিদর্শক জনাব ইখতিয়ার উদ্দিন কতৃক বাদী হয়ে সিএমপি হালিশহর থানায় এজাহার দায়ের সহ ধৃত আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দের বিষয়টি প্রক্রিয়াধিন আছে।