মো. মোক্তার হোসেন বাবু:
চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানা এলাকায় একটি বহুতল ভবনে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ সময় ভবনটি থেকে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ অর্ধশতাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশের ভাষ্য, ওই বহুতল ভবনে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের অবস্থান এবং সেখানে সন্দেহজনক কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতেই বিষয়টি যাচাই করতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ভবনটির বিভিন্ন স্থান তল্লাশি করে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়।
অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনসহ অর্ধশতাধিক ডিভাইস রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এসব ডিভাইসে কী ধরনের তথ্য রয়েছে এবং সেগুলো কী কাজে ব্যবহৃত হতো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চার দেশের নাগরিক আটক
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। তারা কী উদ্দেশ্যে ওই ভবনে অবস্থান করছিলেন, কতদিন ধরে সেখানে ছিলেন এবং তাদের অবস্থানের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ভবনটিতে বিদেশি নাগরিকদের অবস্থানের পেছনে কোনো প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক কার্যক্রম কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
চলছে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, অভিযানে ৬৩ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
তিনি জানান, অভিযানকালে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসও জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, বাংলাদেশে অবস্থানের বৈধতা এবং তারা কী ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি জব্দ করা ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোও পর্যালোচনা করা হতে পারে। তবে এসব ডিভাইসে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পুলিশ।
সন্দেহজনক কার্যক্রমের তথ্য
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, একটি ভবনে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের অবস্থান এবং তাদের কার্যক্রম নিয়ে পুলিশের কাছে তথ্য আসে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে।
তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ। বর্তমানে তাদের পরিচয় ও কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যাচাই-বাছাই ও তদন্ত শেষে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে একই ভবনে এত বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের অবস্থান এবং তাদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে ওই ভবনে তাদের অবস্থানের প্রকৃত কারণ ও কার্যক্রম সম্পর্কে পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।




