রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের ন্যায়বিচার চান ত্রাণমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

সোমবার সচিবালয়ে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার (আইআইএমএম)-এর প্রধান নিকোলাস কুমজিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন ত্রাণমন্ত্রী।

বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রয়োজন। তাদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার উপযোগী পরিবেশ তৈরিতেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও জোরালো উদ্যোগ প্রয়োজন।

আইআইএমএমের প্রধান নিকোলাস কুমজিয়ান বৈঠকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতির সাম্প্রতিক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নতুন করে আসা এসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আগে থেকেই অবস্থানরত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

কুমজিয়ান বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে এখনো সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতা অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারছে না। চলমান পরিস্থিতি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সঙ্গে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুতির সম্পর্কও স্পষ্ট করছে।

আইআইএমএমের কার্যক্রম

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৩৯/২ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা বা আইআইএমএম প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩/২৬৪ নম্বর প্রস্তাবেও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়।

জেনেভাভিত্তিক আইআইএমএম নিকোলাস কুমজিয়ানের নেতৃত্বে ২০১৯ সালের আগস্টে কার্যক্রম শুরু করে। মিয়ানমারে ২০১১ সাল থেকে সংঘটিত গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অন্যান্য লঙ্ঘনের তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং বিশ্লেষণ করাই সংস্থাটির অন্যতম প্রধান কাজ।

আইআইএমএম এসব প্রমাণ জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক আদালতের ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ায় ব্যবহারের উপযোগী করে প্রস্তুত করে। এর মাধ্যমে মিয়ানমারে সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করা হচ্ছে।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে মিয়ানমারে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি, রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পথ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সর্বশেষ