ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করতে সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য ১২৪ কোটি ইউরো, যা প্রায় ১৩৮ কোটি মার্কিন ডলারের সমান, অর্থ ছাড় করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বুধবার (৭ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের জন্য ইইউর ৯ হাজার কোটি ইউরোর ‘ইউক্রেন সাপোর্ট লোন’ কর্মসূচির প্রতিরক্ষা খাত থেকেই এই অর্থ দেওয়া হয়েছে। নতুন বরাদ্দের অর্থ মূলত ইউক্রেনের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পে উৎপাদিত বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম কেনায় ব্যয় করা হবে।
এর আওতায় ইউক্রেনের তৈরি ড্রোন, ড্রোন প্রতিহত করার সরঞ্জাম, ড্রোনের গোলাবারুদ এবং ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করা হবে। এর ফলে একদিকে ইউক্রেনের সামরিক সরঞ্জামের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশটির নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতাও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে অসহনীয় করে তুলতে পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি করে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে ইইউ।
ইইউর ঋণ কর্মসূচির আওতায় ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা খাতে ৬ হাজার কোটি ইউরো এবং বাজেট সহায়তা হিসেবে আরও ৩ হাজার কোটি ইউরো বরাদ্দ রাখা হয়েছে। শুধু ২০২৬ সালেই ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২ হাজার ৮৩০ কোটি ইউরো দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের।
ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রতিরক্ষা খাতের আওতায় ইউক্রেনকে আরও অর্থ দেওয়া হবে। অর্থাৎ সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে কিয়েভের পাশে ইইউর আর্থিক সহায়তা আরও বাড়তে পারে।
২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইইউ ও এর সদস্য দেশগুলো ইউক্রেনকে বিভিন্ন খাতে মোট ২২ হাজার ৮৭০ কোটি ইউরোর সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে স্থবির করে রাখা রুশ সম্পদ থেকে অর্জিত অর্থের ৩৮০ কোটি ইউরোও রয়েছে।
এদিকে ২০২৬ সালের বাকি সময়ে ইউক্রেনের জন্য আরও ৩ হাজার ২৫০ কোটি ইউরোর আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনের অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

