ইরানে নতুন হামলার শঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে সেনা ও কূটনীতিক সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
spot_img

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বাড়ার আশঙ্কার মধ্যে অঞ্চলটির বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনা পুনর্বিন্যাস শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশে কূটনৈতিক মিশনের অপ্রয়োজনীয় কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার পরিকল্পনা বিবেচনা করছেন—এমন খবরের মধ্যেই এ পদক্ষেপ সামনে এসেছে।

- Advertisement -

রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডান, কাতার ও কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদেরও বিভিন্ন স্থান থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোতে আকাশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সীমিতসংখ্যক সেনা মোতায়েন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে দুই মার্কিন কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরও দুই ব্যক্তির বরাত দেওয়া হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে প্রথম দফার হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র দপ্তর একই ধরনের সতর্কতামূলক প্রস্তুতি নিয়েছিল।

সম্ভাব্য ইরানি পাল্টা হামলার ঝুঁকি কমাতে সে সময় ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি থেকে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। হাজার হাজার সেনা উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন বেসামরিক হোটেল ও দপ্তর ভবনে আশ্রয় নেন। এ ঘটনায় তেহরান অভিযোগ করেছিল, নিজেদের সামরিক সদস্যদের সুরক্ষায় উপসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক নাগরিকদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন।

বর্তমান সেনা পুনর্বিন্যাসের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিমোথি হকিন্স। তবে তিনি জানিয়েছেন, সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়াতে মার্কিন সেনাদের নিয়মিতভাবে বিভিন্ন স্থানে পুনর্বিন্যাস করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও স্বার্থ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বজায় রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনকারীদের হামলার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সৌদি আরব থেকে অপ্রয়োজনীয় কূটনৈতিক কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনা এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশ থেকে কূটনৈতিক কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ বিষয়ে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনকে ‘ভুল’ বলে উল্লেখ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট।

ইরানে হামলার একাধিক পরিকল্পনা

নতুন করে ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে একাধিক পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন বলে এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এসব পরিকল্পনায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ভূগর্ভস্থ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দ্বীপে হামলার বিষয় রয়েছে।

সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ইরানের খার্গ ও কেশম দ্বীপের নামও উঠে এসেছে। খার্গ দ্বীপ দেশটির তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত কেশম দ্বীপের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি।

মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন উপদেষ্টা ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথও রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে প্রশাসনের অন্য কয়েকজন উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেছেন, সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও পরিণতি নির্ধারণ না করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

এরই মধ্যে চলতি মাসের গত সোমবার আকস্মিক সফরে ইসরাইলে যান হেগসেথ। সেখানে তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। ইসরাইলের ২৭ অক্টোবরের পার্লামেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে এ বৈঠককে ঘিরেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

তবে চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবে না ওয়াশিংটন। নতুন করে সামরিক পরিকল্পনা তৈরি এবং মধ্যপ্রাচ্যে সেনা ও কূটনৈতিক কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগের মধ্যে মার্কিন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

সর্বশেষ