যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধের কারণে আগে থেকেই অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে ইরান। এবার প্রতিবেশী ইরাক ও পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির বাণিজ্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। স্থলপথে পণ্য পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে শাফাক নিউজ জানিয়েছে, সমুদ্রপথে বাণিজ্যের সুযোগ সীমিত হওয়ায় ইরান এখন স্থলপথের ওপর তুলনামূলক বেশি নির্ভরশীল। এ অবস্থায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্তে বিধিনিষেধ আরোপের ফলে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি ও রপ্তানি ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়ে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চোরাচালান প্রতিরোধ ও নজরদারি জোরদারের যুক্তিতে গত বুধবার ইরানের সঙ্গে আল-শিব সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দেয় ইরাক। অন্যদিকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সপ্তাহান্তে ইরান থেকে আসা ট্রাকের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করে পাকিস্তান। দেশটি গাবদ ও তাফতান সীমান্তপথে এসব পদক্ষেপ নেয়।
এদিকে ইরানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করতে ওয়াশিংটনের চাপও অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট চলতি মাসের শুরুতে জানিয়েছিলেন, ইরানের স্থলপথে বাণিজ্য সীমিত করতে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সীমান্তে বিধিনিষেধের কারণে পণ্য পরিবহনে ইতোমধ্যে বড় ধরনের জট সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের পরিবহন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৯ সেপ্টেম্বর তুরস্ক, আফগানিস্তান ও আজারবাইজানের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় প্রায় ১৭ হাজার ট্রাক আটকে ছিল। কোনো কোনো স্থানে পণ্যবাহী ট্রাককে ২০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় কিছু চালক পচে যাওয়া ফলসহ কৃষিপণ্য ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি রপ্তানিতেও বাধার চিত্র উঠে এসেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান সীমান্তের ইরানি অংশে চার হাজার ৫০০ টনের বেশি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আটকে রয়েছে। এতে দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ও রপ্তানি কার্যক্রমের ওপর সীমান্ত বিধিনিষেধের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সমুদ্র ও স্থলপথে বাণিজ্যের সুযোগ সংকুচিত হলে ইরানের পণ্য পরিবহন ব্যয়, সরবরাহব্যবস্থা এবং বৈদেশিক বাণিজ্য আরও চাপে পড়তে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় সীমান্তে পণ্য আটকে থাকলে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও জ্বালানি সরবরাহেও জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: শাফাক নিউজ

