ইসরায়েলে নির্বাচনের আগে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
spot_img

ইসরায়েলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার আগে ও পরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কী ধরনের ব্যর্থতা ছিল, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি উঠেছে নতুন করে। এ দাবিতে তেল আবিবে আয়োজিত সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হাজারো মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের স্বজন, হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষ এবং সাবেক জিম্মিরা অংশ নিয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

- Advertisement -

শনিবার রাতে তেল আবিবের হোস্টেজেস স্কয়ারে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির সাধারণ নির্বাচনের আগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। আয়োজক সংগঠন ‘অক্টোবর কাউন্সিল’-এর দাবি, বিক্ষোভে এক লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন। তবে পুলিশ অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি, ৭ অক্টোবরের হামলার পেছনে থাকা নিরাপত্তাগত ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা তদন্তে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করতে হবে। তাদের মতে, হামলার আগে সতর্কসংকেত শনাক্ত করা, নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং হামলার পর সরকারের পদক্ষেপ—সবকিছুই নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

‘কী ঘটেছিল, সত্য সামনে আসতে হবে’

হামলায় নিহত জিম্মি ওরি দানিনোর বাবা এলহানান দানিনো অভিযোগ করেন, সরকার তদন্ত কমিশন গঠন না করায় ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন বিলম্বিত হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, হামলার প্রায় তিন বছর পরও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু না হওয়া নিহতদের পরিবারের জন্য গভীর হতাশার বিষয়।

আরেক জিম্মির মা ভিকি কোহেন বলেন, ৭ অক্টোবর কী ঘটেছিল, তা আড়াল হতে দেওয়া যাবে না। নিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা সরে গেলেও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে সাবেক জিম্মি ড্যানিয়েল আলোনি বলেন, ওই দিন শুধু মানুষকে অপহরণ করা হয়নি, মানুষের নিরাপত্তাবোধও ভেঙে পড়েছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের পর শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বিরোধী নেতাদের অংশগ্রহণ

বিক্ষোভে নেতানিয়াহুর বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের কয়েকজন শীর্ষ নেতাও যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট, ডেমোক্র্যাটস পার্টির ইয়ার গোলান, ইসরায়েল বেইতেনুর আভিগদর লিবারম্যান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদ।

ইয়ার গোলান জানান, নির্বাচনের পরপরই রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করবেন তাঁরা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং নিহতদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

তদন্ত কমিশন নিয়ে সরকারের আপত্তি

ইসরায়েলে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন বড় ধরনের জাতীয় বিপর্যয়ের তদন্তের জন্য সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যবস্থাগুলোর একটি। এ ধরনের কমিশন সাক্ষীদের তলব করতে পারে এবং তদন্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষের বিষয়ে সুপারিশ দিতে পারে।

তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ ধরনের কমিশন গঠনে সম্মতি দেননি। তাঁর যুক্তি, সুপ্রিম কোর্টের নিয়োগ দেওয়া কমিশন সরকারের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে। ফলে তদন্ত কমিশনের গঠন ও নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার পর থেকে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের বক্তব্য, হামলার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এবং হামলা মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জবাব পাওয়া জরুরি।

নির্বাচনের আগে তেল আবিবের এই বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে তদন্ত ও জবাবদিহির প্রশ্নটি আবারও সামনে এসেছে। তবে কমিশন গঠন নিয়ে সরকারের অবস্থান এবং বিরোধীদের প্রতিশ্রুতির মধ্যে শেষ পর্যন্ত কী অগ্রগতি হয়, তা নির্ভর করবে নির্বাচনের পর নেওয়া রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ওপর।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

সর্বশেষ