বিনিয়োগ ও বাণিজ্য জোরদারে আজ জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এ সফরে বাণিজ্য, অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

- Advertisement -

সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের চলমান সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি দেশটির শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লোর সদরদপ্তর এবং টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে।

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া এ সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এ সফরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। সংশ্লিষ্টদের আশা, চুক্তিটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, সফরকালে কৃষি, মৎস্য, দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন খাতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর কিংবা সহযোগিতার বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।

অর্থনৈতিক বিষয় ছাড়াও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।

কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি বিনিময় এবং উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা গেলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ