ফ্রান্স-ইতালিতে সংঘর্ষ, স্পেন-পর্তুগালে রাজপথে হাজারো মানুষ

পেনশন ও আবাসন সংকট থেকে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন-রাজপথে হাজারো মানুষ, জোরদার নিরাপত্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
spot_img

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, পেনশন ও আবাসন সংকট, শিক্ষা, দুর্নীতি এবং যুদ্ধের প্রতিবাদে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্স, ইতালি ও আলবেনিয়ায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে পেনশনভোগীরা নিজেদের অধিকার রক্ষায় এবং পর্তুগালের লিসবনে সাশ্রয়ী আবাসনের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন।

- Advertisement -

আগের বিক্ষোভগুলোতে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনার পর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য। কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ফ্রান্সে গ্রেপ্তার, আহত নিরাপত্তাকর্মী

ফ্রান্সের কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় এক হাজার সদস্য আহত হয়েছেন। শুধু প্যারিসেই আহত হয়েছেন প্রায় ১০০ বিক্ষোভকারী ও স্থানীয় বাসিন্দা।

বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়।

আলবেনিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলন

আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় শনিবার সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হাজারো মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে চলা ধারাবাহিক আন্দোলনে সরকারি ভবনে হামলা ও কয়েক ডজন বিক্ষোভকারীকে আটকের ঘটনাও ঘটেছে।

কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। রাজনৈতিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনে রাজধানীর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ইতালির আট শহরে বিক্ষোভ, আটক ৩৭১

ইতালির মিলান, রোম, তুরিন, নেপলস, বোলোনিয়া ও ফ্লোরেন্সসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেন। এ সময় কিছু বিক্ষোভকারী বোতল, পাথর ও আতশবাজি নিক্ষেপ করেন বলে জানা গেছে।

ইতালির পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার আটটি শহরের বিক্ষোভ থেকে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৭১ জনকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়, যাঁদের মধ্যে ১১০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

আগের বিক্ষোভে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনার পর নতুন কর্মসূচি ঘিরে সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পেনশন ও আবাসনের দাবিতে স্পেন-পর্তুগালে মিছিল

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে পেনশনভোগী ও তাঁদের সমর্থকেরা অবসরকালীন অধিকার রক্ষার দাবিতে মিছিল করেন। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেনশন বাড়ানো, ন্যূনতম পেনশনকে ন্যূনতম মজুরির সমপর্যায়ে নেওয়া এবং নারী-পুরুষের পেনশন বৈষম্য কমানোর দাবি জানান তাঁরা।

একই সঙ্গে সরকারি পেনশনব্যবস্থা বেসরকারীকরণের উদ্যোগ বন্ধেরও আহ্বান জানান আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবির কেন্দ্রে রয়েছে অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

অন্যদিকে, পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে সাশ্রয়ী আবাসনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আবাসন ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

জীবনযাত্রার চাপ থেকে ক্ষোভ

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভের ধরন ও দাবিতে পার্থক্য থাকলেও জীবনযাত্রার ব্যয়, সামাজিক অধিকার এবং সরকারি নীতির প্রতি অসন্তোষ আন্দোলনগুলোর অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। কোথাও রাজনৈতিক জবাবদিহি, কোথাও পেনশন ও আবাসন সুবিধা, আবার কোথাও যুদ্ধের বিরোধিতা মানুষকে রাজপথে এনেছে।

বিভিন্ন দেশে সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ও আহত হওয়ার ঘটনা বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তবে এসব আন্দোলনের পর সংশ্লিষ্ট সরকারগুলো কী পদক্ষেপ নেয় এবং বিক্ষোভকারীদের দাবির কতটা সমাধান হয়, তা এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: ইউরোনিউজ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)

সর্বশেষ