আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউরোপের বিভিন্ন শহরে চলমান বিক্ষোভে রাশিয়ার উসকানি রয়েছে—এমন অভিযোগকে অতিরঞ্জিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁর দাবি, ইউরোপীয় নেতারা প্রথমে বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করলেও পরে আবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে পুরোনো অভিযোগ তুলতে শুরু করেছেন। এতে নিজেদের দেশের চলমান পরিস্থিতির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের বদলে অন্যের ওপর দায় চাপানোর প্রবণতা প্রকাশ পাচ্ছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ভিজিটিআরকে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন পুতিন। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপের বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার অভিযোগকে তিনি শুধু অতিরঞ্জিতই নয়, ইউরোপের সাধারণ নাগরিকদের কাছেও অবিশ্বাস্য বলে মন্তব্য করেন।
পুতিন বলেন, ইউরোপের ঘটনাবলি নিয়ে প্রথম দিকে রাশিয়াকে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা হচ্ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগ উঠেছিল, মার্কিন প্রশাসনের কর্মকাণ্ড এবং ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন ইউরোপের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলেছে।
রুশ প্রেসিডেন্টের দাবি, ইউরোপীয় নেতারা নিজেদের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এভাবে অবস্থান নেবেন, তা তাঁর কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁরা আবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পুরোনো ধারায় ফিরে গেছেন।
রাশিয়াকে দায়ী করার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন
সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, রাশিয়াকে বিভিন্ন গুরুতর ঘটনার জন্য দায়ী করার প্রবণতা নতুন নয়। ইউরোপের শহরগুলোতে ব্যাপক বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার অভিযোগও সেই ধারার অংশ বলে মনে করেন তিনি।
পুতিনের ভাষায়, ইউরোপের বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভ সংগঠিত করার পেছনে রাশিয়ার ভূমিকা রয়েছে—এমন দাবি স্পষ্টতই অতিরঞ্জিত। ইউরোপের সাধারণ মানুষও বিষয়টি বুঝতে পারেন বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইউরোপের কয়েকটি দেশের নেতা চলমান ঘটনাবলির পেছনের কারণ বিশ্লেষণ না করে দায় অন্যের ওপর চাপাচ্ছেন। প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র এবং পরে রাশিয়াকে দায়ী করার প্রবণতাকে তিনি নেতৃত্বের দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
পুতিনের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের অভিযোগের পরিবর্তে ইউরোপীয় নেতাদের উচিত বিক্ষোভের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
ফ্রান্সের বিক্ষোভ ঘিরে রাশিয়ার প্রসঙ্গ
ইউরোপে বিক্ষোভে বিদেশি শক্তির প্রভাব নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক আন্দোলন বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। দেশটিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে অসন্তোষের মধ্যে এ আন্দোলন বিস্তৃত হয়েছে।
গত ২১ অক্টোবর অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) আয়োজিত এক সম্মেলনে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীদের বক্তব্যে রাশিয়া, চীন, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) আন্দোলনের বৈরী বয়ানের প্রতিফলন রয়েছে।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যে ইউরোপের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আন্দোলনে বিদেশি শক্তির প্রভাব নিয়ে বিতর্ক নতুন করে সামনে আসে। অন্যদিকে, পুতিন এ ধরনের অভিযোগের বিরোধিতা করে ইউরোপীয় নেতাদের নিজেদের দেশের পরিস্থিতির কারণ অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে ইউরোপের বিক্ষোভে রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যের বাইরে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। পুতিনের বক্তব্য তাঁর নিজের অবস্থান তুলে ধরে; একইভাবে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগও সংশ্লিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

