যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেলবাহী জাহাজে আটকে পড়া প্রায় ৪০ জন ইরানি নাবিককে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশটির জলসীমার বাইরে অবস্থানরত জাহাজগুলো থেকে নাবিকদের তীরে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলীয় গলে বন্দরের মাধ্যমে নাবিকদের জাহাজ থেকে তীরে আনার উদ্যোগ নেয় দেশটির কর্তৃপক্ষ।
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র থুশারা রদ্রিগো জানান, মানবিক বিবেচনায় নাবিকদের জাহাজ থেকে তীরে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের যাবতীয় ব্যয় বহন করেছে শ্রীলঙ্কায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস।
কলম্বোয় ইরানি দূতাবাসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও নাবিকদের চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চিকিৎসার জন্য তাদের গলে বন্দর এলাকা থেকে রাজধানী কলম্বোয় নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে শনিবার রাতেই তারা শ্রীলঙ্কা ছেড়ে চলে যান। ফলে দেশটিতে তাদের অবস্থান ছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টার।
এর আগে প্রায় এক মাস আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের কয়েকটি জাহাজ শ্রীলঙ্কার জলসীমার কাছে আটকে পড়ার খবর প্রকাশ করেছিল মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ওই সময় শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত জাহাজগুলোকে সহায়তা দেওয়া হবে না।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা ওয়াশিংটনের বৃহত্তর নীতির অংশ এবং তা শ্রীলঙ্কাকে লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়নি বলে সে সময় ব্যাখ্যা দিয়েছিল কলম্বো।
এদিকে, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রয়োগের খবর নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত রেখেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তবে মানবিক পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে শ্রীলঙ্কা প্রস্তুত বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, চলতি বছর ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে ইরানের ফ্রিগেট আইআরআইএস ডেনায় হামলা চালিয়ে ডুবিয়ে দেয় একটি মার্কিন সাবমেরিন। টর্পেডো হামলায় জাহাজটির অন্তত ৮৪ জন নিহত হন। এ ঘটনা ঘিরে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি জাহাজগুলোর চলাচল ও কার্যক্রম নিয়ে জটিলতার মধ্যেই নাবিকদের চিকিৎসা দেওয়ার এ ঘটনা ঘটল। শ্রীলঙ্কার পক্ষ থেকে পদক্ষেপটিকে মানবিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সূত্র: দ্য হিন্দু

