ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে হিজবুল্লাহ, ইরানের কোটি ডলারের সহায়তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
spot_img

ইসরায়েলের সঙ্গে আবারও সংঘাত শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কায় গত তিন মাস ধরে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ করছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইরান থেকে কয়েক কোটি ডলার অর্থসহায়তা পাওয়ার তথ্য জানিয়েছেন লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

- Advertisement -

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের সঙ্গে আগের সংঘর্ষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও নতুন করে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে হিজবুল্লাহ। গত জুন থেকে সংঘাতের বিরতির সময়টিকে কাজে লাগিয়ে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে মনোযোগ দিয়েছে গোষ্ঠীটি। বিস্ফোরক মজুতের পাশাপাশি ইসরায়েলি সামরিক অবস্থানে হামলা চালাতে সক্ষম ড্রোন তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনীর দুটি সূত্র।

নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র ও হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের জন্য ইরান থেকে কয়েক কোটি ডলার পেয়েছে গোষ্ঠীটি। এ ছাড়া লেবাননের শিয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর সহায়তায় তেহরান থেকে প্রায় ২০ কোটি ডলার পাওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি আগের সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে হিজবুল্লাহ। বিশেষ করে বিনত জুবাইল শহর এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আলি আল-তাহের পাহাড়ি শৈলশিরাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন গোষ্ঠীটির কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র এবং লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনীর তিন কর্মকর্তা।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ছোট ছোট দলে অভিযান পরিচালনা এবং সীমিত পরিসরে ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কৌশলের কারণে কয়েকটি ফ্রন্টে হিজবুল্লাহর কিছু ইউনিট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। একই সঙ্গে দূরনিয়ন্ত্রিত ইসরায়েলি সামরিক ব্যবস্থা, অস্ত্রসজ্জিত ড্রোন ও রিমোট-নিয়ন্ত্রিত সশস্ত্র যানবাহনের মোকাবিলায়ও সমস্যায় পড়তে হয় তাদের।

তবে এখনো অস্ত্রভান্ডার ও যোদ্ধাদের পুরোপুরি প্রস্তুত করতে পারেনি হিজবুল্লাহ। অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

চলতি মাসে লেবাননের কর্তৃপক্ষের জব্দ করা কিছু বিস্ফোরক নিজেদের বলে স্বীকার করেছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির দাবি, এসব বিস্ফোরক ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। হিজবুল্লাহর এক কর্মকর্তা ও লেবাননের নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছেন, বিস্ফোরকগুলো বিশেষভাবে বিস্ফোরকবাহী ড্রোনে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।

এদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তাতে সরাসরি অংশ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো অবস্থান জানায়নি হিজবুল্লাহ। তবে গোষ্ঠীটির গণমাধ্যম দপ্তর রয়টার্সকে জানিয়েছে, লেবাননে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর অজুহাত ইসরায়েলি নেতাদের হাতে তুলে দিতে চায় না তারা।

নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আবারও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—এমন উদ্বেগও রয়েছে হিজবুল্লাহর মধ্যে। আগের সংঘাতে ক্ষয়ক্ষতির পর সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন এবং সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের ঝুঁকি মোকাবিলার মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে গোষ্ঠীটি।

হিজবুল্লাহর গণমাধ্যম দপ্তর আরও বলেছে, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা তাদের বৈধ অধিকার। একই সঙ্গে নিজেদের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে সংগঠনটি।

সূত্র: রয়টার্স

সর্বশেষ