নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় কুষ্টিয়া জেলা ও শহর আওয়ামী লীগের তিন নেতাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চার আসামির অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।
তিন অভিযোগে বিচার
মামলার নথি অনুযায়ী, আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগই যথেষ্ট বলে আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্যের সময় উপস্থিত থেকে সমর্থন জানানো, ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ছাত্র-জনতাকে হত্যার নির্দেশ ও ষড়যন্ত্রে অংশ নেওয়া এবং ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, আসামিদের বক্তব্য, নির্দেশনা ও সাংগঠনিক ভূমিকা কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে প্রভাব ফেলেছিল। এসব অভিযোগের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের সময় বিভিন্ন বক্তব্য ও বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রসিকিউশন।
মামলার নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এক বক্তব্যে আজগর আলী বলেছিলেন, আন্দোলন যেকোনোভাবে দমনের নির্দেশনা রয়েছে হানিফের। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্কে ওই বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের অপেক্ষা
গত ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। এরপর ৭ অক্টোবর আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।
পরে গত মঙ্গলবার রায় ঘোষণার দিন হিসেবে বৃহস্পতিবার নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত দিনেই চার আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।
এই রায়ে হানিফকে মৃত্যুদণ্ড, অপর তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং চারজনের অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার অভিযোগ, রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য ও বিচারিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এ রায় ঘোষণা করা হয়।

