যুবদল ছেড়ে স্বেচ্ছাসেবক দলে, হামলায় পা হারালেন যুবক

মোঃ রাকিব
spot_img

মোঃ রাকিব চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় রাজনৈতিক পক্ষ পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে আবু ইউসুফ ওরফে জীবন (২৭) নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত জীবনের ডান পা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

- Advertisement -

গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতের পরিবারের অভিযোগ, মহানগর যুবদলের প্রচার সম্পাদক জিল্লুর রহমান জুয়েলের অনুসারী হিসেবে রাজনীতি ছেড়ে নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরুজ্জামান শিমুলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকে জীবনের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। এর জেরেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জুয়েল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ১৩ থেকে ১৪ জনের একটি দল প্রথমে জীবনকে মারধর করে। পরে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তার পা লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ইকরাম বাবু, আরমান, মেহেদী ও নাবিদ নামে কয়েকজনের নাম সামনে এসেছে।

জীবনের পরিবারের ভাষ্য, প্রায় দুই বছর ধরে তিনি যুবদল নেতা জিল্লুর রহমান জুয়েলের অনুসারী হিসেবে রাজনীতি করতেন। সম্প্রতি সেই পক্ষ ত্যাগ করে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নুরুজ্জামান শিমুলের সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর থেকেই জুয়েলের অনুসারীদের সঙ্গে তার বিরোধ বাড়তে থাকে।

হামলার পর ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া বক্তব্যে জীবন ইকরাম বাবু ও আরমানের বিরুদ্ধে তাকে ছুরিকাঘাত ও গুলি করার অভিযোগ করেন। এ বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, মঙ্গলবার রাতে পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জীবনকে হাসপাতালে আনা হয়। পরে তাকে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

তবে গুলির অভিযোগ নাকচ করেছেন বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন। তার ভাষ্য, জীবনকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হয়েছে, তবে গুলির ঘটনা ঘটেনি। মেহেদী নামে এক যুবকের সঙ্গে পূর্ববিরোধের জেরে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার আগের দিনও তাদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

জীবনের পরিবারের সদস্য ও দলীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, জুয়েলের ভাগনে মেহেদী ও তার কয়েকজন অনুসারীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জীবনের বিরোধ চলছিল। হামলার আগের দিন জীবনের ছোট ভাই ইমনকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেছে পরিবার। এ ঘটনার পর মেহেদীর সঙ্গে জীবনের কথা-কাটাকাটি হয়েছিল বলে জানা গেছে।

চমেক হাসপাতালে ছেলের পাশে থাকা জীবনের মা মোছাম্মৎ শামসুন্নাহার নাহার অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে বারবার জুয়েলের সঙ্গে রাজনীতি করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তবে জীবন রাজনীতি করতে চান না এবং চাঁদাবাজিতে জড়াবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন।

শামসুন্নাহারের দাবি, ইমনকে মারধরের পর জুয়েল তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, ইমন বাড়ি ফিরতে পারবে, কিন্তু জীবনকে এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না। কুঞ্জছায়া এলাকা ছেড়ে না গেলে জীবনকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ইমনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এসব ঘটনার পরই তার ছেলের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন শামসুন্নাহার। হামলাকারীরা এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, জীবনের পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, কাউকে তার সঙ্গে রাজনীতি করার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।

জুয়েলের দাবি, হামলাকারী ও আহত জীবন—দুজনই তার ভাগনে এবং পাশের এলাকার বাসিন্দা। নিজেদের মধ্যে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তাদের সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে জুয়েল বলেন, তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। জীবনের মায়ের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, কোনো পক্ষ হয়তো তাকে দিয়ে এসব কথা বলিয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সত্য নয় বলেও জানান তিনি।

ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সর্বশেষ